প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জে আইএফআইসি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী রহস্যজনকভাবে অজ্ঞান, টাকা লুটের আশঙ্কা

klyrcr byk ajnn hy pr 1
আজকের কথা ডেস্ক

কুলিয়ারচরে আইএফআইসি ব্যাংকের উপশাখার ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারী একযোগে অজ্ঞান হয়ে পড়ার রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষ ও পুলিশ উদ্বিগ্ন, টাকা লুটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ব্যাংকের কর্মীরা কে-কেউ?

অজ্ঞান হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন:

  • সৌমিক জামান খান (ব্যবস্থাপক)
  • মুস্তাফিজুর রহমান (কর্মকর্তা)
  • হোসনা আক্তার (কর্মকর্তা)
  • মেরিনা (কর্মকর্তা)
  • সুকান্ত (কর্মকর্তা)
  • কামাল মিয়া (নিরাপত্তাকর্মী)

কী ঘটেছে?

সূত্র জানায়, দুপুরে ব্যাংকের নিয়মিত কার্যক্রম চলাকালে হঠাৎ ছয়জনেই একে একে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে একজন পড়ে থাকতে দেখা যায়, অন্যরাও বিভিন্ন স্থানে গড়াগড়ি খাচ্ছিলেন এবং বমি করছিলেন। দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপক সৌমিক জামান খান হাসপাতালে বলেন, “হঠাৎ মাথা ঘুরে সবাই একে একে পড়ে গেছি। আমরা কিছুই খাইনি বা স্প্রে হয়নি।”

তদন্ত ও পুলিশের মন্তব্য

কুলিয়ারচর থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “এখনো বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। সবাই সুস্থ হলে পুরো ঘটনা জানা যাবে।”
পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে এবং ঘটনাস্থল লকডাউন করেছে। প্রাথমিক অনুমান ফুড পয়জন বা গ্যাসের কারণে হতে পারে। তবে ব্যাংকের ভেতরে কেমিক্যাল জাতীয় দুর্গন্ধ পাওয়া গেছে, যা থেকে মাথা ঘুরার মতো অবস্থা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মাহমুদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “যারা ব্যাংকে গিয়েছেন, তাঁদেরও মাথা ঘুরছিল। আমরা তদন্ত চালাচ্ছি।”

স্থানীয়দের বক্তব্য

স্থানীয়রা জানান, ব্যাংকটি থানা সড়কের হাবিব কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত এবং প্রায় তিন বছর ধরে সেখান থেকে শাখার কার্যক্রম চলছে। সাধারণ গ্রাহকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে কর্মীরা অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছেন, যার কারণে তারা চিৎকার করে সাহায্যের জন্য আহ্বান জানান।


ঘটনাটির পেছনের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চলছে

এখনো স্পষ্ট না কী কারণে ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারী একযোগে অসুস্থ ও অজ্ঞান হয়েছেন। পুলিশের তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর প্রকৃত কারণ প্রকাশ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে।


কীভাবে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যেতে পারে?

  • ব্যাংক ও অফিসগুলোতে নিয়মিত কেমিক্যাল ও পরিবেশগত নিরাপত্তা পরিদর্শন
  • সিসিটিভি নজরদারি আরও জোরদার করা
  • কর্মীদের সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি
  • আশপাশের এলাকায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের প্রতি নজর রাখা

 

প্রিন্ট করুন