

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)-এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর বলেছেন, “গণমাধ্যম অঙ্গনে রাজনৈতিক হিংসাত্মক নৈরাজ্য ও দুর্বৃত্তায়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”
তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় না।”
শনিবার (৩১ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিবৃতিতে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মৌলিক চেতনা রক্ষায় সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। রাজনৈতিক স্বার্থে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা চাপ প্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলের কিছু দুর্বৃত্তচক্র ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়া হাউজ দখল, প্রেস ক্লাব তালাবদ্ধ, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতি এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোসহ হয়রানির অতীতের সব রেকর্ড আজ ভেঙে গেছে।”
বিএমএসএফ জানায়, সবশেষ পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে তালা লাগানো হয়েছে এবং সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ফেনী, তেতুলিয়া, ভোলা, নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায়। এসব জায়গায় সাংবাদিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হলে শুধু গণতন্ত্রই নয়, সমাজের জবাবদিহিতা, উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারও হুমকির মুখে পড়ে। এতে দুর্নীতি বাড়ে, নৈরাজ্য ছড়ায় এবং দারিদ্র্য আরও ঘনীভূত হয়।”
তিনি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান, “সাংবাদিকদের প্রতি আস্থা রাখুন, হুমকি ও ভয়ভীতি থেকে বিরত থাকুন এবং সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিন।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের শত্রু নয়, বরং তারা গণমানুষের কণ্ঠস্বর। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে যেন সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা না আসে।”
বিবৃতিতে বাংলাদেশ এর সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যে কোনো রাজনৈতিক চাপ ও হুমকির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের এক কণ্ঠে দাঁড়াতে হবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করতে দেওয়া যাবে না।”