প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

পুলিশ হত্যাকারীরাই আজ পুলিশের কাছে আশ্রয়প্রার্থী

1698519293 ef24f4d2cfc74aa25b63b5ab9c1c3e07
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

২০২৪ সালের জুলাই থেকে ৫ আগস্ট রাত পর্যন্ত বাংলাদেশ এক ভয়াবহ সহিংস পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে শতশত পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, পরিকল্পিত হামলায় আহত করা হয়েছে আরও অনেককে। এমনকি নির্বাচিত এক সরকার প্রধানকেও দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে ভয়, সহিংসতা ও চরম হুমকির মুখে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, যারা এই সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের পেছনে সক্রিয় ছিল—যারা সামাজিক মাধ্যমে পুলিশের মৃত্যুতে উল্লাস করেছিল—তারাই এখন নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের দারস্থ হচ্ছে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী ও ধর্মীয় চরমপন্থীরা স্থানীয় থানায় গিয়ে ‘জীবনের নিরাপত্তা’ চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন। অথচ এদের অনেকেই পুলিশের ওপর হামলায় সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তার ভাষায়,
“যাদের হাতে আমার সহকর্মীকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, তারাই আজ বলছে—স্যার, আমাদের বাঁচান। এটা শুধু পেশাগত দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, মানবিকভাবেও কতটা জটিল পরিস্থিতি—তা ভাষায় বোঝানো কঠিন।”

বিশ্লেষকদের মত:
বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আফরোজা হক বলেন,
“বাংলাদেশের রাজনীতিতে আদর্শ নয়, সুবিধাবাদী মনোভাবই এখন মূল চালিকাশল। যারা রাষ্ট্রবিরোধী নাশকতায় জড়িত ছিল, তারা এখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দয়ায় বাঁচতে চায়—এটা গণতন্ত্রের জন্য লজ্জাজনক বাস্তবতা।”

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি নিছক ভীত সন্ত্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা চাওয়া নয়—বরং এটি একটি কৌশলগত কুৎসিত পাল্টা চাল, যাতে ভবিষ্যতের সহিংস কর্মকাণ্ডের দায় এড়িয়ে যাওয়া যায় এবং নতুন ষড়যন্ত্রের প্রস্তুতি নেওয়া যায়।

শেষ কথা:
বাংলাদেশের মানুষ, পুলিশ বাহিনী এবং সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান একটি অস্থির ও অনিশ্চিত সময় পার করছে। তবে ইতিহাস একদিন লিখে রাখবে—কে কখন কার রক্তে হাত রঞ্জিত করেছিল, আর কে সেই হত্যাকারীর কাছেই জীবনভিক্ষা চেয়েছিল।


 

প্রিন্ট করুন