
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের রংপুরের বাড়ি ‘দ্য স্কাই ভিউ’-তে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর ঘটনায় কোনো মামলা, গ্রেপ্তার বা বিচার নয়—বরং অভিযুক্তদের নিয়ে বিএনপি ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা সরাসরি হাজির হন সেনাক্যাম্পে। সেখানে দোষীরা সেনা কর্মকর্তাদের সামনে দুঃখ প্রকাশ করে বলল—‘সরি’।
এ ঘটনায় বিস্মিত রংপুরবাসী ও বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা বিচার নয়, প্রহসন। এভাবে ক্ষমা চেয়ে কেউ ভয়াবহ অপরাধ থেকে দায়মুক্তি পেতে পারে?
গতকাল রাত ৯টার দিকে রংপুর স্টেডিয়ামে অবস্থিত সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বিএনপির নেতারা উপস্থিত হন। সঙ্গে ছিলেন সেই নেতাকর্মীরা, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তারা জিএম কাদেরের বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে সরাসরি জড়িত।
সেনাবাহিনীর ৭২ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কাইয়ুমের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অভিযুক্ত নেতারা বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। ভবিষ্যতে এমন হবে না। আমরা ক্ষমা চাচ্ছি।”
এই কথিত ‘ক্ষমা চাওয়ার’ আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন—
২৯ মে রাতে রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা একটি বিক্ষোভ মিছিল থেকে শুরু হয় সংঘর্ষ। এরপরই হামলা চালানো হয় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বাসভবনে। হামলাকারীদের হাতে ছিল লাঠিসোঁটা, ইট-পাথর ও দেশীয় অস্ত্র। বাসায় ঢুকে চালানো হয় ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।
এই পুরো ঘটনা সেনাবাহিনীর কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়ে। সেনাবাহিনী হামলাকারীদের শনাক্ত করে এবং তাদের উপস্থিত করার আহ্বান জানায়।
সেনা ক্যাম্পে গিয়ে বিএনপি ও ছাত্র আন্দোলনের নেতারা স্বীকার করেন—তাদের অঙ্গ সংগঠনের দুজন এই হামলায় জড়িত ছিলেন। তারা সরি বলেছে। এ সময় তারা বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না এবং রংপুরকে ‘শান্তির নগরী’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন।
এদিকে ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ দাবি করেন—আগে তাদের মিছিলে জাতীয় পার্টির সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। তারই প্রতিক্রিয়ায় কাদেরের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কাইয়ুম বলেন,
“আমরা কাউকে বাধা দিচ্ছি না রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। কিন্তু আইন নিজের হাতে নেওয়া, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ—এগুলো মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরা শুধু চিহ্নিত ব্যক্তিদের আহ্বান জানিয়েছিলাম।”
তিনি জানান, জাতীয় পার্টিকেও ডাকা হতে পারে, যদি তাদের পক্ষ থেকেও কেউ হামলার অংশ হয়ে থাকে এবং তাদের শনাক্ত করা যায়।
ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে উঠেছে একটাই প্রশ্ন—এ কেমন বিচার?
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভয়ঙ্কর এক নজির। একটি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় যদি শুধু ক্ষমা চেয়ে পার পাওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন হামলা আরও উৎসাহিত হবে।