🟠 সংক্ষিপ্ত হেডলাইন:
এই সরকার লুটপাটে ব্যস্ত! নগদের মাধ্যমে সরকারি ভাতার ১৭১১ কোটি টাকা গায়েব!
🔸 নগদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ: ১৭১১ কোটি টাকা গায়েব!
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর বিরুদ্ধে এবার এমন এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এসেছে, যা পূর্বের সব অনিয়মকেও ছাপিয়ে গেছে। সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের জন্য পাঠানো ১৭১১ কোটি টাকা ৪১টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়—কিন্তু টাকাগুলো পৌঁছায়নি আসল প্রাপকদের কাছে।
এই ভয়ঙ্কর জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি বিশদ তদন্ত প্রতিবেদনে।
🔸 ই-মানি জালিয়াতি ও ভুয়া রিপোর্টিং পোর্টাল
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে জানা যায়, নগদ কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই ৬৪৫ কোটি টাকার ‘ভুয়া ই-মানি’ ইস্যু করেছে, যার পেছনে কোনো বাস্তব অর্থ ছিল না। তারা একটি ‘ম্যানিপুলেটেড রিপোর্টিং পোর্টাল’ তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক বিভাগকে বিভ্রান্ত করেছে।
🔸 অবৈধ নিয়োগ ও গ্রাহক ঝুঁকি
তদন্তে উঠে আসে, মামলার আসামি তানভির আহমেদ মিশুক নিজেকে পুনরায় এমডি ঘোষণা করে আরেক আসামি শাফায়েত আলমকে সিইও হিসেবে নিয়োগ দেন—ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই। ফলে গ্রাহকের টাকা এবং তথ্য ‘গভীর ঝুঁকির মুখে’ পড়েছে।
🔸 অডিটে পাওয়া ১৭১১ কোটি টাকার অজানা গন্তব্য
নগদের নিয়ন্ত্রণাধীন ৪১টি অবৈধ ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে ১৭১১ কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য মিলেছে। এগুলোর বড় অংশই ছিল সরকারি ভাতা। সেই সঙ্গে কিছু ই-কমার্স গ্রাহকের হিসাবেও ১৪৪ কোটি টাকা অবৈধভাবে স্থানান্তর হয়েছে।
🔸 মালিকানা বদলে দুর্নীতি: বিদেশে অর্থ পাচার?
প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকায় মালিকানা কিনে নেয় ক্যান্ডেলস্টোন ইনভেস্টমেন্টস, পরে তা সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স এবং শেষে ৭০% শেয়ার বিক্রি হয় ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের এক কোম্পানির কাছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এটি মানিলন্ডারিং ও বৈদেশিক মুদ্রা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
🔸 নগদের সফটওয়্যার-হার্ডওয়্যার ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষিত
নগদের বর্তমান প্রযুক্তি সিস্টেম ‘সেকেলে ও অনিরাপদ’ বলেই উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিস্টেম লগ না থাকায় কোনো অপরাধের ডিজিটাল প্রমাণ রাখা সম্ভব নয়। লাইভ তথ্য সরবরাহেও ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
🔸 স্টে অর্ডারের সুযোগে দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি
৭ মে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতের ‘স্টে অর্ডারের’ সুযোগে নগদ কর্তৃপক্ষ প্রশাসক দলের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়। একইসঙ্গে, অডিট ফার্ম কেপিএমজি’র কাজেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।
✅ উপসংহার: জনগণের অর্থ নিরাপদ নয়
নগদের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাট ও দুর্নীতির এই চিত্র শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়—এটি পুরো রাষ্ট্রীয় দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি। এই সরকার যখন লুটপাটে ব্যস্ত, তখন জনগণের ভাতা হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে।
👉 দৈনিক আজকের কথা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করাই এখন সময়ের দাবি।

আজকের কথা ডেস্ক