চাঁদাবাজির মামলায় ফরিদপুরের নগরকান্দা থেকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর গোলাম হায়দারকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম জানান, রাতে গোলাম হায়দারকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. রাজু মোল্লা থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মেজর হায়দার পরিষদের মালামাল ও সরকারি প্রকল্পের (কাবিখা-কাবিটা) অর্থ থেকে নিয়মিতভাবে ‘ভাগ’ দাবি করতেন। রাজু মোল্লার ভাষ্যমতে, গত ২৯ মে মুরাদ নামের একজন তাঁকে গণকবর এলাকায় ডেকে নিয়ে যান, যেখানে মেজর হায়দার উপস্থিত ছিলেন এবং টাকা না দিলে ভয়ভীতি দেখান।
রাজু মোল্লা আরও বলেন, “গতকাল বিকালে কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে এসে আমার দোকানের সামনে হুমকি দিয়ে যায়, মেজরের নাম করে। আমি ভয় পেয়ে থানায় অভিযোগ করি। এলাকার সাধারণ মানুষও তাঁর ভয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।”
স্থানীয়ভাবে মেজর হায়দার নিজেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে ফরিদপুর-২ আসনের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিতেন। গত ২৪ মে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে এনসিপির নামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বক্তব্য দেন। তবে এনসিপির ফরিদপুর জেলা সংগঠক মো. বায়োজিদ হোসেন (সাহেদ) বলেন, “উনি আমাদের দলে নন। দলে যোগ দেওয়ার জন্য অনেকেই যোগাযোগ করেন, প্রোগ্রামেও অংশ নেন—মেজর হায়দার তেমনই একজন। বিষয়টি আমরা কেন্দ্রকে জানাব।”
এদিকে, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব সোহেল রানা বলেন, “মেজর হায়দার এনসিপি বা বৈষম্যবিরোধীর কেউ নন। তিনি আমাদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেছেন। নিজেকে উপদেষ্টা বলে পরিচয় দিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখাতেন। তাঁর গ্রেপ্তার হওয়া স্বস্তির খবর।”

আজকের কথা ডেস্ক