
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, “বিভিন্ন দেশের ভিসা নিষেধাজ্ঞার জন্য দেশের মানুষ ও ব্যবসায়ীরাই দায়ী।” এই মন্তব্যে গোটা জাতিকে অবাক করে দিয়েছেন তিনি। যেখানে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা, নীতির অসংগতি ও দুর্নীতি আন্তর্জাতিক আস্থার সংকটে পরিণত হয়েছে, সেখানে সাধারণ মানুষকে দায়ী করাটা কতটা যৌক্তিক?
বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরকারের একটি চিরাচরিত কৌশল—নিজেদের গাফিলতি আড়াল করে জনগণকেই অপরাধী বানানো। এভাবে কি রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুতে তৌহিদ হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই।” অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারতের শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে ভিসা পাচ্ছে। কূটনৈতিক তৎপরতার অভাবে আজ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখার অধিকার কি বাংলাদেশের তরুণদের নেই?
ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট বন্ধ করায় তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা বিকল্প তৈরি করেছি, এটা আমাদের জন্য শাপেবর।” কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ, সময়ও লাগছে বেশি।
সুতরাং, সরকারের মুখে যতই ‘শাপেবর’ বলা হোক, বাস্তবতা হলো—ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, এবং অর্থনীতিতে চাপ।
নির্বাচন নিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, “সরকারের সিদ্ধান্তই বিদেশিদের জানানো হয়।” অথচ আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা ফেরাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে—এই অস্পষ্ট বার্তা আরও সন্দেহ বাড়িয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে এমন অনির্দিষ্টতা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।
সরকারের চরম ব্যর্থতা পড়তে নিচের লিঙ্কসে ক্লিক করুন
সরকারি বক্তব্যে বারবার একটি চিত্রই পরিষ্কার— সরকার দায় নিচ্ছে না, বরং জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে সব ব্যর্থতা।
যদি সরকারই কূটনৈতিক ব্যর্থতা, দুর্নীতি, ও অব্যবস্থাপনাকে স্বীকার না করে, তাহলে জনগণের ভিসা পাওয়া বা আন্তর্জাতিক আস্থা ফেরানো কোন যুক্তিতে সম্ভব?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার নিজের ঘরে আগুন লাগিয়ে এখন ধোঁয়ার জন্য জনসাধারণকে দায়ী করছে। অথচ এই সংকট থেকে উত্তরণে দরকার নৈতিক জবাবদিহিতা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা, এবং জনগণের প্রতি সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি।
📌 শেষ কথা:
জনগণ যদি সব কিছুর জন্য দায়ী হয়, তাহলে শাসকের দায়িত্ব কি শুধুই বাহানা দেওয়া? পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য এক ভয়াবহ বাস্তবতা তুলে ধরছে—এখানে জনগণ শুধু শাসিত, সম্মানিত নয়।