প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

২৯ বছরে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৪৩ হাজার, আর ৭ মাসে সুপারিশে ৬৮ হাজার নিয়োগ!

Untitled 2 66a389e29ec7a
আজকের কথা ডেস্ক

📝 সাব-টাইটেল:

মাত্র ৭ মাসে সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছে ৬৮,২৭৭ জন—যা ২৯ বছরে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তদের তুলনায় অনেক বেশি। এই তথ্য চাকরিতে মেধা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে।


📌 হাইলাইটস (Highlights):

  • গত ২৯ বছরে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ ৪৩,০০০ জন
  • কিন্তু ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৭ মাসে সুপারিশে নিয়োগ ৬৮,২৭৭ জন
  • অধিকাংশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়া সরাসরি সুপারিশের মাধ্যমে
  • চাকরি প্রত্যাশীদের মধ্যে ক্ষোভ, “মেধার কোনো মূল্য নেই!”
  • বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির ঝুঁকি বাড়ছে
  • প্রশ্ন জাগছে—কোটা না মেধা, কোনটা আসলে কার্যকর?

✍️ মূল প্রতিবেদন:

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বনাম সুপারিশে নিয়োগ: ৭ মাসে চাকরি পেল ৬৮,২৭৭ জন! 😮

বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বনাম সুপারিশে নিয়োগ নিয়ে এখন তীব্র বিতর্ক চলছে। যেখানে ২৯ বছরে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় মোট ৪৩,০০০ জন চাকরি পেয়েছেন, সেখানে গত এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৭ মাসেই কোনো সার্কুলার ছাড়াই সুপারিশের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছে ৬৮,২৭৭ জন!

🔹 সুপারিশে নিয়োগ: স্বজনপ্রীতি না বাস্তবতা?

সরকারি চাকরিতে নিয়মের বাইরে এতো বিশাল সংখ্যক নিয়োগ প্রশ্ন তুলছে—কোটা থাকলে মেধাবী চাকরি পায় না, আর সুপারিশ থাকলে মেধার দরকারই পড়েনা।

🔹 পরিসংখ্যানই বলে সব

✅ গত ২৯ বছরে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ: ৪৩,০০০ জন

✅ গত ৭ মাসে সুপারিশে নিয়োগ: ৬৮,২৭৭ জন

✅ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ

✅ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেধাতালিকা উপেক্ষিত

🔍 কোন প্রক্রিয়ায় এই নিয়োগ?

এগুলোকে বলা হচ্ছে “বিজ্ঞপ্তিবিহীন বিশেষ নিয়োগ”। যেখানে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC), চাকরির পরীক্ষা বা নিয়মানুবর্তিতা না মেনেই, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সুপারিশে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বেশিরভাগ নিয়োগ হয়েছে:

  • স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে
  • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে
  • ভূমি অফিস ও উপজেলা প্রশাসনে
  • বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ ঢাবি উপাচার্যের 
  • নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই সমন্বয়কের সুপারিশে ওয়াসায় চাকরি!
  • শেষ দিনে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ৩৭ জনকে নিয়োগ দিয়ে গেলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি শিরীণ

❗ জনগণের প্রশ্ন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তরুণরা বলছেন,

“বছরের পর বছর কোচিং করে বিসিএস পরীক্ষায় বসি, আর সুপারিশ পেলেই কেউ চাকরি পায়—এটাই কি মেধার মূল্যায়ন?”

অন্য এক চাকরি প্রত্যাশী লেখেন,

“আমার GPA ৫, MCQ টপ স্কোর, তবু ভাইভায় বাদ। কারণ, আমার পেছনে ‘সুপারিশ’ নেই।”

⚖️ বিশ্লেষকদের মত

শিক্ষানীতিবিদরা বলছেন, এর ফলে:

  • দক্ষতা কমে যাবে প্রশাসনে
  • রাজনৈতিক প্রভাব বেড়ে যাবে
  • বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে সরকারি চাকরি ব্যবস্থা

সুশাসন চাই আন্দোলনের নেতা বলেন,

“এই নিয়োগ ব্যবস্থায় মেধা নয়, চলে ঘুষ, তদবির আর ক্ষমতার খেলা।”

ভিসা নিষেধাজ্ঞায় সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে জনগণকে দায়ী: কতটা নির্লজ্জ এই কৌশল?


🔚 উপসংহার

সরকার যদি সত্যিই ‘মেধাভিত্তিক সমাজ’ চায়, তবে স্বচ্ছ নিয়োগই একমাত্র পথ। নয়তো আজ যারা বঞ্চিত, তারা একদিন আর চেষ্টা করবে না।
★★ প্রশ্নটা তাই খুব সরল: “সরকারি চাকরিতে আসলেই কি মূল্যায়িত হয় মেধা?” না কি, চলছে ‘চেনা জানা আর ক্ষমতার সুপারিশ’?


প্রিন্ট করুন