প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবৈধ বিলবোর্ডের দখল, কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবৈধ বিলবোর্ডের দখলে
আজকের কথা ডেস্ক

প্রশাসনের নীরবতায় মহাসড়কজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে অবৈধ বিজ্ঞাপন স্থাপনা, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি


🟩 সংবাদের হাইলাইটস (Highlights):

  • ✅ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে হাজারো অবৈধ বিলবোর্ড বসানো হয়েছে।
  • ✅ সরকারি অনুমতি ও ইজারা ছাড়াই স্থাপন, বছরে কোটি টাকার রাজস্ব হানি।
  • ✅ বিলবোর্ড স্থাপনার ফলে সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  • ✅ সওজ সূত্র বলছে, অন্তত ৯০ শতাংশ বিলবোর্ড অবৈধ।
  • ✅ নীতিমালা অনুসারে বিলবোর্ডে নম্বর, মেয়াদ ও ইজারার তথ্য উল্লেখ বাধ্যতামূলক—কিন্তু তা মানা হচ্ছে না।
  • ✅ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি লাভবান হচ্ছেন।
  • ✅ বিলবোর্ডপ্রতি বছরে গড়ে ৩-৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব—তবুও নীরব প্রশাসন।
  • ✅ মহাসড়ক আইন অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও বাস্তবায়ন নেই।
  • ✅ বিশেষজ্ঞদের মত, অবৈধ বিলবোর্ড সিন্ডিকেট ভেঙে সরকারকে রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ নিতে হবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম বাণিজ্যিক সড়ক, এখন অবৈধ বিলবোর্ডের দখলে। সরকারি অনুমতি ছাড়াই মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে হাজারো সাইনবোর্ড, ব্যানার ও হোর্ডিং। এতে সরকার বছরে কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে, পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে সড়কের সৌন্দর্য এবং বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। “ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবৈধ বিলবোর্ড বসানো হয়েছে, যা সরকারের রাজস্ব ক্ষতির বড় কারণ।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঁচপুর, মেঘনা ও দাউদকান্দি এলাকায় প্রতিটি মোড়, ওভারব্রিজ, গাছ ও ভবনের ছাদে বিনা অনুমতিতে বসানো হয়েছে বিলবোর্ড। অনেক বিলবোর্ডে নম্বর বা মেয়াদের কোনো উল্লেখ নেই। সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্র বলছে, এসব বিলবোর্ডের ৯০ শতাংশই অবৈধ, এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিধিমালা লঙ্ঘন করে স্থাপন করা হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবৈধ বিলবোর্ডের দখলে
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবৈধ বিলবোর্ডের দখল, কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

বিলবোর্ড নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি জমিতে বিজ্ঞাপন দিতে হলে নির্ধারিত ভাড়ায় ইজারা নিতে হয় এবং মেয়াদ শেষে তা নবায়ন করতে হয়। প্রতি বর্গফুটে ৬০ টাকা এবং ১৫% ভ্যাট নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে কোনো হিসাব রাখা হয় না। ফলে সরকার হারাচ্ছে বিপুল অংকের আয়।

“ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবৈধ বিলবোর্ড বসানো হয়েছে, যা সরকারের রাজস্ব ক্ষতির বড় কারণ।” বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন কমিটির আহবায়ক সাংবাদিক ফাহিমা বেগম প্রিয়া।

সড়ক আইন অনুযায়ী অবৈধ বিলবোর্ড স্থাপনে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, সওজ ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগসাজশে গড়ে উঠেছে এক প্রকার ‘বিলবোর্ড সিন্ডিকেট’, যা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চলেছে।

সরকার বঞ্চিত বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে

জনস্বার্থে অবিলম্বে বিলবোর্ড উচ্ছেদ, নীতিমালার বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থাপনা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


🧭 সরকার ব্যর্থ, দায় চাপায় জনগণের ওপর

প্রিন্ট করুন