

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম বাণিজ্যিক সড়ক, এখন অবৈধ বিলবোর্ডের দখলে। সরকারি অনুমতি ছাড়াই মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে হাজারো সাইনবোর্ড, ব্যানার ও হোর্ডিং। এতে সরকার বছরে কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে, পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে সড়কের সৌন্দর্য এবং বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। “ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবৈধ বিলবোর্ড বসানো হয়েছে, যা সরকারের রাজস্ব ক্ষতির বড় কারণ।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঁচপুর, মেঘনা ও দাউদকান্দি এলাকায় প্রতিটি মোড়, ওভারব্রিজ, গাছ ও ভবনের ছাদে বিনা অনুমতিতে বসানো হয়েছে বিলবোর্ড। অনেক বিলবোর্ডে নম্বর বা মেয়াদের কোনো উল্লেখ নেই। সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্র বলছে, এসব বিলবোর্ডের ৯০ শতাংশই অবৈধ, এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিধিমালা লঙ্ঘন করে স্থাপন করা হয়েছে।

বিলবোর্ড নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি জমিতে বিজ্ঞাপন দিতে হলে নির্ধারিত ভাড়ায় ইজারা নিতে হয় এবং মেয়াদ শেষে তা নবায়ন করতে হয়। প্রতি বর্গফুটে ৬০ টাকা এবং ১৫% ভ্যাট নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে কোনো হিসাব রাখা হয় না। ফলে সরকার হারাচ্ছে বিপুল অংকের আয়।
“ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবৈধ বিলবোর্ড বসানো হয়েছে, যা সরকারের রাজস্ব ক্ষতির বড় কারণ।” বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন কমিটির আহবায়ক সাংবাদিক ফাহিমা বেগম প্রিয়া।
সড়ক আইন অনুযায়ী অবৈধ বিলবোর্ড স্থাপনে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, সওজ ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগসাজশে গড়ে উঠেছে এক প্রকার ‘বিলবোর্ড সিন্ডিকেট’, যা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চলেছে।
সরকার বঞ্চিত বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে
জনস্বার্থে অবিলম্বে বিলবোর্ড উচ্ছেদ, নীতিমালার বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থাপনা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।