প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাহ, বাংলাদেশ! একদিকে শুল্ক ছাড়, অন্যদিকে রেমিট্যান্সে কর!

yunus and biden
আজকের কথা ডেস্ক

🔹 হাইলাইটস:

✅ মার্কিন পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার: সরকার যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করেছে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে।

✅ রেমিট্যান্সে ১০% ট্যাক্স: প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের ওপর আরোপ করা হয়েছে ১০% আয়কর।

✅ প্রবাসীদের ক্ষোভ: রেমিট্যান্স যোদ্ধারা মনে করছেন, সরকার তাদের অবদানের যথাযথ মর্যাদা না দিয়ে উল্টো শাস্তি দিচ্ছে।

✅ জুলাইয়ের প্রতিবাদে সঠিকতা প্রমাণ?: ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যারা রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধের ডাক দিয়েছিলেন, আজ তারা যেন সত্য প্রমাণিত।

✅ রাষ্ট্রীয় নীতিতে দ্বৈত মানসিকতা?: একই সঙ্গে বিদেশি বাণিজ্যে ছাড়, কিন্তু দেশের প্রবাসীদের ওপর চাপ—এই বৈপরীত্য নিয়ে সমালোচনা তুঙ্গে।

✅ বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা: এ ধরনের সিদ্ধান্তে প্রবাসীদের দেশে টাকা পাঠানোর আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মার্কিনদের খুশি করতে তাদের পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়া হলো।
অন্যদিকে, যারা প্রবাসে রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠান, সেই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলো ১০% ট্যাক্স।
বাহ বাংলাদেশ! সত্যিই প্রশংসনীয় এক কৌশল।

এই তো মাত্র ক’মাস আগে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে, একদল রেমিট্যান্স যোদ্ধা ক্ষোভে ঘোষণা দিয়েছিলেন—দেশে বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠাবেন না, কারণ প্রণোদনার নামে হয়রানি ও জটিলতা। তখন তাদের নিয়ে নানা কটূক্তি হয়েছিল। আজ তাদের বোধ হয় মিষ্টি খাওয়ার সময় এসেছে!

ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি বিএনপির

এক পলকে দুই নীতির জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত

  • মার্কিন পণ্য: শুল্ক প্রত্যাহার করে দেওয়া হচ্ছে, যেন সম্পর্ক ‘সুন্দর’ থাকে।
  • রেমিট্যান্স প্রেরক: বিদেশে অবস্থান করে দেশের অর্থনীতির মূল চাকা সচল রাখা মানুষগুলোকে ধরা হচ্ছে ‘উপার্জনের উৎস’ হিসেবে। ট্যাক্স বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে ‘আধুনিক রাজস্ব ব্যবস্থার’ নামে।
ক্লিনটন- উনূস বৈঠক থেকে কী বার্তা পেল বাংলাদেশ
‘ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ লিডারস স্টেজ’ ইউনূস তার বক্তব্য শুরুর পূর্বে।

প্রশ্ন উঠছে—কেন এই বৈষম্য?

সরকার বলছে, বৈদেশিক বাণিজ্যে শুল্ক ছাড় দিলে আমদানি-রফতানি বাড়বে, কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত হবে। কিন্তু প্রবাসী আয় থেকেই তো আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ আসে! তাহলে তাদের ওপর এমন চাপ?

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ইস্যুতে নানামুখী চাপে সরকার?

প্রবাসীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার আরেক পদক্ষেপ?

রেমিট্যান্স পাঠানো আগে থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের ভেতর দিয়ে যেতে হয়—ব্যাংক জটিলতা, এক্সচেঞ্জ রেটের ধোঁয়াশা, সময়ক্ষেপণ, নানা রকম কাগজপত্র। এখন তার ওপর আবার কর?
এ যেন নিজের পরিবারের জন্য পাঠানো টাকায় নিজের দেশই বলছে, “তোমার আয় সন্দেহজনক, আগে কর দাও।”

শেষ কথা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ হয়তো মার্কিন হাসি জোগাড় করাই বড় অর্জন।
কিন্তু প্রবাসীদের কান্না যদি না শোনা হয়, তাহলে সেই হাসি খুব বেশিদিন টিকবে না।
‘রেমিট্যান্স হিরো’ বলে সংবর্ধনা দিয়ে পোস্টার টানিয়ে লাভ নেই, যদি বাস্তবে তাদেরই সবচেয়ে বেশি নিঃস্ব করা হয়।

ভিসা নিষেধাজ্ঞায় সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে জনগণকে দায়ী: কতটা নির্লজ্জ এই কৌশল?


 

প্রিন্ট করুন