সাবহেড: খালেদা জিয়াকে ষাঁড় উপহা
খালেদা জিয়াকে ষাঁড় উপহার দেয়ার গরুটি গত ছয় বছর ধরে সন্তানের মতো লালন করা ‘কালো মানিক’ এখন খালেদা জিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার অপেক্ষায়
লিড:
রাজনৈতিক ভক্তি কখনো কখনো হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো ব্যতিক্রমী গল্প রচনা করে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে ষাঁড় উপহার দিয়ে তেমনই এক মানবিক গল্প সৃষ্টি করেছেন পটুয়াখালীর এক সাধারণ কৃষক সোহাগ মৃধা, যিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ষাঁড় উপহার দিতে ছয় বছর ধরে লালন করা ষাঁড় ‘কালো মানিক’ নিয়ে রওনা দিয়েছেন ঢাকার পথে।
মূল প্রতিবেদন:
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের কৃষক সোহাগ মৃধার সঙ্গে অনেকেই এখন পরিচিত হচ্ছেন তার ব্যতিক্রমী ভালোবাসার কারণে। ছয় বছর ধরে সন্তানের মতো লালন-পালন করা ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় ‘কালো মানিক’কে খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে বৃহস্পতিবার (৫ মে) সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তিনি।
দৃঢ় রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে উৎসারিত এই কর্মটি ইতিমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কালো মানিকের ওজন প্রায় ৩৫ মণ, দৈর্ঘ্য ১০ ফুট এবং উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। এক সময় এই ষাঁড়টির দাম উঠেছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা, কিন্তু তা সত্ত্বেও সোহাগ মৃধা গরুটি বিক্রি করেননি।
তিনি বলেন, “আমি গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়াকে ষাঁড় উপহার (এই গরুটি) উপহার দিতে চাই। এই ইচ্ছা অনেক দিনের। আজ সেই ইচ্ছা পূরণ হতে যাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালে একজন কৃষক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গরু উপহার দেওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে দেখে তার ভেতরে এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগে—একদিন তিনি তার নেত্রী খালেদা জিয়াকে গরু উপহার দেবেন।
খালেদা জিয়াকে ৩৫ মণ ওজনের ‘কালো মানিক’ উপহার দিতে চান কৃষক
খালেদা জিয়াকে ষাঁড় উপহার দেয়ার জন্য ওই কালো মানিকের সঙ্গে ঢাকায় যাত্রার জন্য তিনটি মিনি ট্রাক, ব্যানার, বাজনার দল ও টি-শার্ট পরিহিত সহযোগীদের নিয়ে যাত্রা করেন সোহাগ। পুরো আয়োজনটি এলাকার মানুষের মাঝেও একধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছে।
পরিবার ও দলের প্রতিক্রিয়া
সোহাগের মা হাজেরা বেগম বলেন, “ওর বাবার মৃত্যু অনেক আগেই হয়েছে। সামান্য জমি চাষ করে সংসার চালায়। ছোটবেলা থেকেই বিএনপিকে ভালোবাসে, এখন ইচ্ছা করেছে নেত্রীকে খালেদা জিয়াকে ষাঁড় গরু উপহার দেবে—আমরাও খুশি।”
তার স্ত্রী সুলতানা আক্তার পলি বলেন, “ খালেদা জিঢাকে ষাড় উপহার দেয়া কালো মানিকটি আর আমার ছোট ছেলের বয়স একই। আমরা দুজনকেই সমান ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছি।”
স্থানীয় আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “সোহাগ একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। নিজের কষ্টের সঞ্চয় দিয়ে গাভি কিনে আজ যে খালেদা জিয়াকে ষাঁড় উপহারটি তৈরি করেছেন, তা দলপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
গভীরতর তাৎপর্য
সাধারণ একজন কৃষকের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে রাজনীতিতে এক মানবিক আবেগের বহিঃপ্রকাশ। যেখানে বিভাজনের রাজনীতি প্রায়শই বিরোধিতায় ভরে ওঠে, সেখানে সোহাগ মৃধার এই কাজ রাজনৈতিক ভালোবাসার এক নিঃস্বার্থ প্রতিচ্ছবি।

