

মূল প্রতিবেদন-
ঈদের আনন্দ সবার ঘরে ফিরলেও, সাংবাদিক ফাহিমা বেগম প্রিয়ার কাছে ঈদ মানে আরও এক নিঃসঙ্গ যুদ্ধ। দুই কন্যা সন্তান সাদিয়া সাবা (৯) ও সাবিহা ইসলাম (৫) মা’র পথ চেয়ে বসে থাকে, অথচ এ নারী সাংবাদিক প্রিয়া ফিরতে পারেন না। কারণ—তিনি এখন নিজ দেশেই এক প্রকারে ন্দি, নিজ বাড়িতেই অনিরাপদ। তার অপরাধ—তিনি মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, ভূমিদস্যুদের নাম প্রকাশ করেছেন, এবং সবচেয়ে বড় কথা—তিনি নারী, যিনি নারী অধিকার নিয়ে লেখেন, প্রতিবাদ করেন।
২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার মুরাদনগরে স্থানীয় মাদক কারবারি ও ভূমিদস্যুদের দ্বারা নৃশংস হামলার শিকার হন এই সাহসী নারী সাংবাদিক। মাথা ও পিঠে গুরুতর আঘাত পান তিনি। হামলার পরপরই তার জীবন থমকে দাঁড়ায়—চিকিৎসা অসম্পূর্ণ, মানসিকভাবে ভেঙে পড়া এক নারী, যার একটাই অপরাধ—সত্য বলা।
👉 আপনি চাইলে নারী সাংবাদিক প্রিয়ার উপর হামলার এই লেখাটি পড়তে পাড়েন
এ বিষয়ে অজ্ঞাত স্থান থেকে এ নারী সাংবাদিক বলেন,
“আমি শুধু সত্য বলার চেষ্টা করেছিলাম। এখন আমি অসুস্থ, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। চিকিৎসা দরকার, নিরাপদ আশ্রয় দরকার—but আমি একা, আর্থিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছি।”
বাংলাদেশে নারীর নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে। বিশেষ করে সেই নারীরা যারা সমাজের অন্ধকার কোণগুলোতে আলো ফেলেন, তাদের জীবন আজ সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে। সাংবাদিক প্রিয়া একজন প্রথাভাঙা নারী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে মুরাদনগরে দুর্নীতি, মাদক, দখলদারিত্ব, এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন করে আসছেন।
কিন্তু এই প্রতিবাদই তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু একবার নয়—নারী সাংবাদিক প্রিয়া কে হত্যার উদ্দেশ্যে একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে। অথচ আজও তার জন্য নেই কোনো কার্যকর পুলিশি সহায়তা, নেই সরকারি নিরাপত্তা।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ২০ জনেরও বেশি সাংবাদিক হামলা, হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অথচ এই সংকট নিয়ে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কিংবা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ে না। বরং অনেকে মনে করছেন, কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নীরবতা পালন করছে।
👉 আপনি চাইলে এই লেখাটি পড়তে পাড়েন—-
আগামী ৭ জুন দেশে ঈদ। সারা দেশের মানুষ পরিবারে আনন্দে মাতলেও, নারী সাংবাদিক প্রিয়া দূরে কোথাও নিরাপদ আশ্রয়ে ঘরছাড়া। তার সন্তানরা জানে না, মা ফিরবেন কবে। জানে না—মা আদৌ বাঁচবেন কি না।
এটা কি একজন সাংবাদিকের প্রাপ্য? একজন মায়ের?
আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আবেদন—বাংলাদেশে নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিন। ফাহিমা আক্তার প্রিয়ার পাশে দাঁড়ান। তার চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও পেশাগত অধিকারের নিশ্চয়তা দিন।
নইলে এ সমাজে সত্য বলা আরও এক ধাপে পিছিয়ে যাবে। সত্য চিরতরে হারিয়ে যাবে সন্ত্রাসীদের হুংকারে।
👉 আপনি চাইলে এই লেখাটি পড়তে পাড়েন