প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সরকারি গাড়িতে গরু: সমালোচনার ঝড় প্রশাসনে

rjshiueno
আজকের কথা ডেস্ক

 বিতর্কে নাটোরের ইউএনও

সরকারি গাড়িতে গরু বহন করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হা-মীম তাবাসসুম প্রভা সম্প্রতি ব্যক্তিগত কোরবানির জন্য কেনা গরু সরকারি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে একটি সরকারি সভায় অংশ নিতে যান ইউএনও। সভা শেষে রাজশাহীর সিটিহাট থেকে তিনি কোরবানির জন্য একটি মাঝারি আকারের গরু কেনেন। সেই গরুটি তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাদ্দপ্রাপ্ত সরকারি ডাবল কেবিন গাড়ির পেছনে তোলেন এবং নিজে সামনের কেবিনে বসে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় ফিরে যান।

গাড়ির চালক সুমন আলী গণমাধ্যমকে জানান, “স্যার (ইউএনও) মিটিং শেষে হাটে গিয়েছিলেন। এরপর গরু কিনে গাড়িতে তুলেছেন। তাঁর অনুমতিতেই গরু গাড়িতে তোলা হয়েছে।”

ইউএনও হা-মীম তাবাসসুম প্রভা বলেন, “বাগাতিপাড়ায় কোনো পশুহাট নেই। ঈদ এখানে করতে হবে, তাই বাধ্য হয়ে রাজশাহী থেকে গরু কিনেছি। গাড়ির পেছনের কেবিনে জায়গা ছিল, তাই গরু তুলেছি। আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের সময়ও এই জায়গায় জব্দকৃত মালামাল তুলি।”

তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভিন্ন মত পোষণ করেন। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি নীতিগতভাবে ভুল এবং নিন্দনীয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি সম্পদ কি এভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যায়? এ ঘটনায় প্রশাসনের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়েছে বলেই অনেকের মত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “সরকারি সম্পদ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা জরুরি। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলে ভবিষ্যতে এর অপব্যবহার আরও বাড়বে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যখন সরকারি গাড়িতে গরু বহন করেন, তখন জনগণের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা নষ্ট হয়।”

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই ধরনের ব্যক্তিগত কাজে সরকারি সম্পদের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসন কি কেবল বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, না কি কার্যকর পদক্ষেপও নেবে?

প্রিন্ট করুন