- যাত্রীদের চরম ভোগান্তির আরেক নাম ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে টাঙ্গাইল শহরের আশেকপুর পর্যন্ত প্রায় ২৩ কিলোমিটার এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চালক, যাত্রী এবং বিশেষ করে ঈদুল আজহার আগেই ঘরমুখো লাখো মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, যানজটের শুরু হয় বুধবার (৫ জুন) রাত থেকেই। তবে বৃহস্পতিবার ভোরের পর থেকে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে শুরু হয়ে এলেঙ্গা, গোপালপুর, করটিয়া হয়ে আশেকপুর পর্যন্ত পুরো মহাসড়কজুড়ে যানবাহন থেমে থেমে চলছে, কোথাও আবার একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘসময় আটকে থাকার কারণে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। যানবাহনে পানির অভাব, টয়লেটের সমস্যা ও অতিরিক্ত গরমের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই।
প্রশাসনের নীরবতায় মহাসড়কজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে অবৈধ বিজ্ঞাপন স্থাপনা, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
পুলিশ ও হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়,ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ঘিরে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের চাপ, কিছু স্থানে রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি এবং বিকল হয়ে পড়া যানবাহনের কারণেই এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে এবং ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে ঈদযাত্রার শুরুতেই এমন যানজটের কারণে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেকেই সময়মতো বাড়ি পৌঁছাতে পারবেন কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সবসময়ই ঈদযাত্রার শুরুতেই এমন দীর্ঘ যানজট ঘরমুখো মানুষের আনন্দযাত্রাকে পরিণত করে দুর্ভোগে। প্রতি বছর ঈদের সময় মহাসড়কে এমন দুরবস্থার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ না থাকায় জনভোগান্তি বাড়ছে বৈ কমছে না। দ্রুত যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।

আজকের কথা ডেস্ক