এপ্রিল নির্বাচন বাস্তবসম্মত কিনা—এই প্রশ্ন সামনে এনে সরকারের ঘোষণার ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন। তারা বলেছে, এ মাসে প্রতিকূল আবহাওয়া, পাবলিক পরীক্ষা এবং রমজান শেষে ক্লান্তির বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এই সময় নির্বাচন আয়োজন প্রশ্নবিদ্ধ।
আজ শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের প্রেক্ষিতে গণসংহতি আন্দোলন এক প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা মনোযোগ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য শুনেছি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি—এই সরকারকে বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচনের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিতে হবে। ভাষণে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত থাকলেও, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে—এই প্রশ্নের কোনো সুস্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।”
মধ্যাংশে দলটি বলে, “আমরা আগেই বলেছি—বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে কেন সম্ভব নয়, সেটি সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হবে। কিন্তু এখন এপ্রিলের প্রথমার্ধে তা আয়োজনের কথা বলা হচ্ছে। এই সময়ে প্রচণ্ড গরম, পাবলিক পরীক্ষা, ও রমজান পরবর্তী সময় থাকায় এপ্রিল নির্বাচন বাস্তবসম্মত কিনা, তা নিয়ে যৌক্তিক সন্দেহ থেকেই যায়।”
দলটি আরও জানায়, সংবিধান সংস্কারকে কেন্দ্র করে তারা আগামী নির্বাচনকে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর নির্বাচন হিসেবে দেখতে চায়, যাতে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে এ বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না।
বন্দরের মালিকানা বা ব্যবস্থাপনা বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে দেশে-বিদেশে যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে, তা সরাসরি ‘অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সমালোচনা করে দলটি বলে—এই বিষয়ে আলোচনা হওয়া জরুরি।
সবশেষে, গণসংহতি আন্দোলন জোর দিয়ে বলেছে—এপ্রিল নির্বাচন বাস্তবসম্মত কিনা, তা কেবল সরকারের সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। বরং জনগণ ও রাজনৈতিক অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সময় ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করাই হবে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।

আজকের কথা ডেস্ক