প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গ্রামীণ ব্যাংকে নাশকতার পরিকল্পনা: কুড়িগ্রামে রাতভর পুলিশি পাহারা

grmn byk WfIgj02
অনলাইন ডেস্ক

🔴 হাইলাইটস:
গ্রামীণ ব্যাংকে নাশকতার পরিকল্পনা একটি সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কুড়িগ্রাম জেলার ৪৯টি শাখায় রাতভর পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অগ্নিসংযোগ ও হামলার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে—এমন আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করেছে। শুধু গ্রামীণ ব্যাংক নয়, কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এসপি মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, নাশকতা বা যেকোনো বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে এবং গোয়েন্দা বিভাগও সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে।

গ্রামীণ ব্যাংকে নাশকতার পরিকল্পনা-এর খবরে রাতভর টানটান নিরাপত্তা জারি ছিল কুড়িগ্রামে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, দেশে ঈদের ছুটির সুযোগে অগ্নিসংযোগ ও হামলার মাধ্যমে নাশকতার একটি ষড়যন্ত্রের আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জরুরি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে কুড়িগ্রাম জেলার ব্যাংকের ৪৯টি শাখায় পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়েও জোরদার করা হয় নিরাপত্তা। গ্রামীণ ব্যাংকে নাশকতার পরিকল্পনা ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতায় কাজ করছে বলে জানান কুড়িগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ বিরোধী একটি গোষ্ঠী দেশে ঈদের ছুটিতে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল। রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগে অবস্থিত বিভিন্ন শাখায় অগ্নিসংযোগ ও হামলার পরিকল্পনা ছিল, যার সূচনা কুড়িগ্রাম থেকেই হওয়ার আশঙ্কা ছিল বলে জানা গেছে। একই ধরনের হামলার আশঙ্কা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও রয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ সম্মিলিতভাবে প্রতিটি শাখায় কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। ঈদের ছুটিতে যাতে কেউ অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে, সে জন্য শহরজুড়ে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

প্রশাসনের হুঁশিয়ারি

এসপি মাহফুজুর রহমান বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী যেকোনো কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে। এরকম পরিকল্পনা যেভাবেই হোক, তা বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।” তিনি আরও জানান, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে কুড়িগ্রামের সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গ্রামীণ ব্যাংকে নাশকতার পরিকল্পনা কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা শুধু এক জেলার জন্য নয়—দেশের সার্বিক নিরাপত্তার প্রতিচ্ছবি। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসন প্রমাণ করেছে, যেকোনো সন্ত্রাসী বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তারা সদা প্রস্তুত।

প্রিন্ট করুন