প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এপ্রিলে নির্বাচনের ঘোষণা এপ্রিল ফুল হতে পারে: ১২ দল

12 dliiy jott
আজকের কথা ডেস্ক

এপ্রিল নির্বাচনের ঘোষণা ২০২৫ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশের ১২ দলীয় জোটের নেতারা। তারা বলেছেন, এটি ‘এপ্রিল ফুল’ হতে পারে। দেশের সব গণতান্ত্রিক দল ডিসেম্বরেই নির্বাচন চায়। রমজান, গ্রীষ্মের আবহাওয়া ও শিক্ষাপরীক্ষার বাস্তবতা উপেক্ষা করে নির্বাচন আয়োজন জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

দেশের ১২ দলীয় জোট এপ্রিল নির্বাচনের ঘোষণা ২০২৫ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। আজ শনিবার (৭ জুন) এক বিবৃতিতে তারা জানান, দেশের জনগণ ভোটের অধিকার ফিরে পেতে ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করেছে — কেউ যেন আবার ‘ফ্যাসিস্টদের’-এর শিকার না হয়।

নেতারা বলেন, এবারের ডিসেম্বরে কেবল একটি দল নয়, দেশের সব গণতান্ত্রিক দল নির্বাচন চায়। এপ্রিল মাসে নির্বাচন হলে সেটি ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার সময়, এবং আবহাওয়াও থাকবে নির্বাচনের অনুপযুক্ত। তাই নির্বাচনের ঘোষণা ২০২৫ পুরো বিষয়টিই একটি কৃত্রিম চাপ প্রয়োগের প্রয়াস বলে মনে করছেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, রমজান মাসের পরপরই এপ্রিল মাস হওয়ায় নির্বাচন পরিচালনা কঠিন হবে। একদিকে চৈত্রের খরা, অন্যদিকে কালবৈশাখীর ঝুঁকি — এই আবহাওয়ায় ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চালানো কঠিন হবে। একইসঙ্গে তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কার খুশির জন্য অধ্যাপক ইউনূস ডিসেম্বর থেকে সরিয়ে এপ্রিল নির্বাচন চান?

তারা বলেন, দেশের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি— ডিসেম্বরে নির্বাচন হোক। ১২ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়, তারা নির্বাচন চায়, কিন্তু তা যেন গণতন্ত্রবিরোধী পরিকল্পনার অংশ না হয়।

১২ দলীয় জোটের নেতারা চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা করেন। তাদের মতে, এসব বক্তব্য জনমত বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে প্রচারিত হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও সচেতন জনতার দাবি মেনেই নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনের ঘোষণা ২০২৬ বাতিল করে ডিসেম্বরেই নির্বাচন দিতে হবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন:
মোস্তফা জামাল হায়দার (জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান)
শাহাদাত হোসেন সেলিম (বাংলাদেশ এলডিপি)
সৈয়দ এহসানুল হুদা (বাংলাদেশ জাতীয় দল)
ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম), রাশেদ প্রধান (জাগপা), লায়ন ফারুক রহমান (লেবার পার্টি), শামসুদ্দীন পারভেজ (কল্যাণ পার্টি)
মাওলানা আব্দুর রকিব (ইসলামী ঐক্যজোট)
আবুল কাশেম (ইসলামিক পার্টি), এম এ মান্নান (নয়া গণতান্ত্রিক পার্টি), ফিরোজ মো. লিটন (প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল)।

সবশেষে তারা আবারও বলেন, এপ্রিল নির্বাচনের ঘোষণা এপ্রিল ফুল হতে পারে, তাই জনগণের দাবি মেনে ডিসেম্বরেই নির্বাচন দিতে হবে।

সংবাদটি প্রস্তুত করতে সহযোগীতায় ফাহিমা বেগম প্রিয়া, যুগ্ম সম্পাদক- রিয়ার মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড।

প্রিন্ট করুন