শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতু রক্ষা বাঁধ ধস পড়ায় ঈদের দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকান। স্থানীয়দের আতঙ্ক, সরকারি ব্যর্থতা
ঈদের সকালে যখন গোটা দেশ কোরবানির উৎসবে মেতেছে, তখন শরীয়তপুরের জাজিরায় প্রান্তে পদ্মা সেতু রক্ষা বাঁধ ধস পড়া তার ভয়াল রূপে শুরু করেছে। নদী পাড়ের মানুষদের জন্য এ দিনটি ছিল না কোনো উৎসবের, বরং কান্না, আতঙ্ক আর সর্বস্ব হারানোর দিন।
💥 এক রাতেই আড়াইশ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে
হঠাৎ ভোররাতে শুরু হওয়া ভাঙনে পদ্মা সেতু প্রকল্পের রক্ষা বাঁধের প্রায় আড়াইশ মিটার অংশ ধসে পড়ে। এই বাঁধটি মাঝিরঘাট থেকে পূর্ব নাওডোবা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। পানির চাপে মুহূর্তেই তা অন্ধকার জলে বিলীন হয়ে যায়।
📉 ক্ষতির পরিমাণ ও ভবিষ্যৎ হুমকি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও হাটবাজারের। বিশেষ করে মাঝিরঘাট বাজারের প্রায় ২০০টি দোকান এখন হুমকির মুখে। এর মধ্যে অনেক দোকানেই ঈদ উপলক্ষে নতুন মালামাল আনা হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সেলিম বলেন,
> “ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসে দেখি ঘরই নেই। ঈদের নামাজ পড়াও হয়নি, ঘর সরাতেই ব্যস্ত ছিলাম।”
🧱 পুরোনো দুর্বলতা ও নতুন ধস
২০১০-১১ অর্থবছরে প্রায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রক্ষা বাঁধে এর আগেও ধস নেমেছিল। গত বছর নভেম্বরেও নাওডোবা এলাকায় ১০০ মিটার বাঁধ ধসে পড়ে। সেখানে নতুন করে সংস্কার করে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়, কিন্তু তা টেকেনি। এবার একই এলাকায় আবারো ধস দেখা দেয়।
🏗️ প্রকৌশল ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বারবার বাঁধ ধসে যাওয়ার পেছনে রয়েছে দুর্বল পরিকল্পনা ও দুর্নীতি। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও বাঁধের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়নি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন ও প্রকৌশল ত্রুটির সমন্বয়ে এই বিপর্যয় হয়েছে।
🛑 অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রভাব
স্থানীয় বাদশা শেখ বলেন,
> “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ পাল্টে গেছে। এখন নদী চলে এসেছে আমাদের দোয়ার পাশে।”
⚠️ আশু ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কথা বলেছে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুমন চন্দ্র বনিক জানিয়েছেন,
“আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এটি কেবল বাঁধ ধস নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি
ঈদের দিনে শরীয়তপুরের মানুষ ঘরহারা হয়ে আশ্রয় খুঁজছেন। এটি কেবল একটি বাঁধ ধস নয় — এটি সরকারের অবহেলা, দুর্নীতি ও পরিকল্পনার ব্যর্থতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। পদ্মা এবার কেড়ে নিচ্ছে কেবল ঘরবাড়ি নয়, ঈদের আনন্দ, মানুষের স্বপ্ন এবং জীবনের নিরাপত্তাও।

আজকের কথা ডেস্ক