প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

যমুনায় বিলীন মানিকগঞ্জের তিনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ghorbdyly
আজকের কথা ডেস্ক

যমুনা নদী ভাঙন আরও একবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে। ভাঙনের কবলে পড়ে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে ভারাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনতলা ভবন। শনিবার (৭ জুন) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে, যা এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি করেছে।

বিদ্যালয়টির অবস্থান ছিল দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা ইউনিয়নের ভারাঙ্গা গ্রামে। গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুরুতে বিদ্যালয় ভবনের একাংশ ধসে পড়ে নদীতে চলে যায়। এরপর একে একে পুরো ভবনটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভবনের ভেতরে থাকা চেয়ার, টেবিলসহ কিছু আসবাবপত্র উদ্ধার করা গেলেও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ এবং শ্রেণিকক্ষের সামগ্রী ভেসে যায় কিংবা ডুবে যায় নদীর স্রোতে।

বাঁচামারা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ওয়াজেদ আলী সরকার বলেন, “যমুনা নদীর ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। আমরা বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এখন স্কুলটিই নেই।”
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত।

যমুনা নদী ভাঙন আরও ভয়াবহ
যমুনা নদী ভাঙন আরও একবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর

এ বিষয়ে আজ রোববার (৮ জুন) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খোরশেদ আলম বলেন, “তীব্র ভাঙনের কারণে বিদ্যালয় ভবনটি নদীগর্ভে চলে গেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা বিষয়টি উপরমহলে জানিয়েছি।”

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন বলেন, “শুক্রবার আমরা খবর পেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলী পাঠিয়ে পরিদর্শন করাই। তবে পরদিনই খবর পাই পুরো ভবনটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

স্থানীয়রা বলছেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এই অঞ্চলে নদীভাঙন দেখা দেয়। বারবার অবহেলা ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি, রাস্তা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হারাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

🔎 পর্যবেক্ষণ:

যমুনা নদী ভাঙন শুধু অবকাঠামোগত ক্ষতি নয়, বরং একটি এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং মানবিক জীবনযাত্রার ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে তিনতলা একটি সরকারি বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার ঘটনা থেকে স্পষ্ট, সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই ধ্বংস আরও বাড়বে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে যমুনা নদী ভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হারাচ্ছে অসংখ্য পরিবার।
এখনই যদি স্থায়ী নদীতীর রক্ষা প্রকল্প গ্রহণ না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন ধ্বংস আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

প্রিন্ট করুন