প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সচিবালয় ও যমুনার আশপাশে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা

থানা অবকাঠামো
আজকের কথা ডেস্ক

সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), যা ৯ জুন সোমবার থেকে বাংলাদেশ সচিবালয়, যমুনা ভবন ও আশপাশের এলাকায় কার্যকর হবে। এই নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী কোনো ধরনের গণজমায়েত, মিছিল, শোভাযাত্রা কিংবা রাজনৈতিক সমাবেশ করা যাবে না। জনশৃঙ্খলা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি, যা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

রবিবার (৮ জুন) ডিএমপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, “জনশৃঙ্খলা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার স্বার্থে” এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে এবং এটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

কোন কোন এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সই করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সচিবালয় ও যমুনা ভবনের আশপাশের যেসব এলাকাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে, তা হলো:

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়
কাকরাইল মসজিদ মোড়
অফিসার্স ক্লাব মোড়
মিন্টু রোড এলাকা

এইসব এলাকায় কোনো রকম মিছিল, শোভাযাত্রা বা সমাবেশ করা যাবে না।

সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
মেট্রোপলিটন পুলিশের বিবৃতি। ছবি – দৈনিক আজকের কথা

সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে সিদ্ধান্তটি

সরকারি পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাখ্যা হিসেবে ‘নিরাপত্তা’ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও, বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজ এটিকে একতরফা ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে।

সম্প্রতি দেখা গেছে, এনসিপি (NCP) নামক নতুন রাজনৈতিক দল ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি করতে পারছে, যেখানে গরমের মধ্যেও তাদের সহায়তায় কৃত্রিম বৃষ্টি, খাবার, পানীয় ও চিকিৎসাসেবা সরবরাহ করা হয়েছে। অপরদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিপেটা, জলকামান ব্যবহার এবং গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞার রাজনৈতিক অর্থ কি?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার এই ধরণের সিদ্ধান্ত আসলে সরকারের পক্ষপাতমূলক মনোভাবেরই প্রকাশ। নির্দিষ্ট দলকে রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে সুবিধা দেওয়া হয়, সেখানে অন্যদের দমন করা হয় নিরাপত্তার অজুহাতে।

এছাড়া এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা সংবিধানসম্মত নাগরিক অধিকার তথা মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলেও দাবি করছেন অনেকে।

🧭 বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও সভা-সমাবেশের অধিকার। কিন্তু বারবার দেখা যাচ্ছে, এই অধিকারকে রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

একদিকে গরমে যেন নেতাকর্মীরা কষ্ট না পান, সেজন্য কৃত্রিম বৃষ্টির মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়, অন্যদিকে যারা সরকারের সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই ধরণের বৈষম্যমূলক আচরণ নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলছে।

সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সাংবিধানিক অধিকার ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন একটি দলকে সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, আর অপর দলকে বাধা ও দমননীতি অনুসরণ করা হয়, তখন তা গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। নাগরিক সমাজ ও বিশ্লেষকদের মতে, এমন নিষেধাজ্ঞা শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেই নয়, বরং মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও সংকুচিত করে তোলে।

প্রিন্ট করুন