
আব্দুল হামিদের সাহসী প্রত্যাবর্তন আবারও প্রমাণ করল, সত্যিকারের নেতারা ভয় নয়, সত্য আর দায়িত্বের পথেই হাঁটেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান শেষে রবিবার দিবাগত রাত দেড়টায় থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে (টিজি-৩৩৯) দেশে ফিরলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ।
ফ্লাইট থেকে হুইলচেয়ারে করে নামিয়ে এনে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে নেওয়া হয় তাঁকে। অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে রাখেননি। বিমানবন্দরে রাত ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন না হলেও তিনি অপেক্ষা করেছেন চুপচাপ, নিয়ম মেনে।
দেশে ফিরেও তিনি পালিয়ে যাননি, গা ঢাকা দেননি, বরং জনগণ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মুখে উপস্থিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা চলমান রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক নেতাদের নামও রয়েছে। এর পরও তিনি চিকিৎসা শেষে বিদেশে থেকে যাননি, বরং সকল ঝুঁকি জেনেও দেশে ফিরে প্রমাণ করেছেন যে আইনের প্রতি তার শ্রদ্ধা কতটা গভীর। এই ফিরে আসার মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে একটি ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।
তাঁর দেশত্যাগের সময় ইমিগ্রেশন পাস ও পুলিশি সমন্বয় নিয়ে কিছু বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে এই প্রত্যাবর্তন সেই বিতর্কের জবাবও বয়ে এনেছে—হামিদ পালাননি, মুখোমুখি হতে এসেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রত্যাবর্তন বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় একটি সাহসী বার্তা দিয়েছে—ক্ষমতা ও প্রভাব নয়, সাহস ও দায়িত্ববোধই একজন নেতার প্রকৃত পরিচয়।
আব্দুল হামিদের সাহসী প্রত্যাবর্তন আজ দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেল—যেখানে অধিকাংশ ক্ষমতাধর ব্যক্তি অভিযোগ এড়াতে দেশ ত্যাগ করেন বা আত্মগোপনে যান, সেখানে হামিদের মতো রাজনীতিবিদ আইনের সম্মুখীন হতে পিছপা হন না। তার এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক সততার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

