বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-এর নেতাকর্মীরা এবার জনরোষের মুখে পড়েছেন। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি পারিবারিক ঘটনার জেরে আন্দোলনটির অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা হাসপাতালে ঢুকে এক শিশুর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাতে গেলে উত্তেজিত লোকজন তাদের মারধর করে।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোববার (৮ জুন) রাত ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এতে রামগঞ্জের ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর সংগঠক রেদোয়ান সালেহীন নাঈমসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয়দের দাবি, তারা নিজেরা হাসপাতালে ঢুকে হুমকি ও বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করেছিল।
আহতদের মধ্যে ছিলেন আজিজ শাকিল, সাঈদ আলম শাহীন, জাহীদ হাসান পাবেল, তারেক আজিজ, সায়মন স্যাম, তারেক ও সাংবাদিক রায়হানুর রহমান। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
রামগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তিন হামলাকারী—মো. মাসুদ, কামাল হোসেন ও তুষারকে আটক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ঘটে শৈরশই গ্রামে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে। এক শিশুর মাথায় বল লাগার পর তার স্বজনদের সঙ্গে খেলোয়াড় রাহুল ও সাফোয়ানের পরিবারের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে উভয় পক্ষ হাসপাতালে উপস্থিত হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বহিরাগত নেতাদের নেতৃত্বে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে।
হাসপাতালেই সেই সংঘর্ষে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নেতারা গণধোলাইয়ের শিকার হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
🧠 রাজনৈতিক বিশ্লেষণ:
🔶 রাজনৈতিক ছায়ায় ‘ছাত্র আন্দোলন’?
নিরপেক্ষ মহল মনে করছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এখন একটি সংগঠনের চেয়েও বেশি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বারবার এনসিপির নেতাদের উপস্থিতি এবং হামলার ঘটনাগুলোর কেন্দ্রে এই সংগঠনের নাম থাকা এটিই ইঙ্গিত দেয়।
রামগঞ্জের ঘটনাতেও আহতদের পাশে দাঁড়ান এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম, যা স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা বলেই ধরা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির লক্ষ্যেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, “সবকিছু দেখে মনে হয় ঘটনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। গণধোলাইয়ের কথা বলা হলেও তারা নিজেরাই আগ্রাসী আচরণ করছিল।”
ঘটনার বিষয়ে রামগঞ্জ থানা পুলিশ আরো জানিয়েছে, হাসপাতালের ভেতর হামলার ঘটনায় আটক তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দিন দিন সহিংস ও উসকানিমূলক আচরণে জড়িয়ে পড়ছে, যা জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।

আজকের কথা ডেস্ক