ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন—বাংলাদেশ সরকারের এই ঘোষণা ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন। কারণ, দ্য কিংস ফাউন্ডেশন সম্প্রতি যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে ড. ইউনূসের নাম নেই। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনরত ইউনূস লন্ডনে রাজা তৃতীয় চার্লসের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের জন্য যাচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে। এদিকে জানা গেছে, তার ব্রিটেন সফরে প্রবাসীদের সঙ্গে নাগরিক সংবর্ধনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়েছে।
সরকারি ভাষ্যমতে, ‘কিং চার্লস থার্ড হারমনি অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য ড. ইউনূস মনোনীত হয়েছেন এবং ১২ জুন লন্ডনের সেন্ট জেমস প্যালেসে রাজা চার্লসের কাছ থেকে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী এ ঘোষণা দেন এক সংবাদ সম্মেলনে।
তবে দ্য কিংস ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে ২১ মে প্রকাশিত মনোনীতদের তালিকায় কোথাও ইউনূসের নাম পাওয়া যায়নি। বরং সেখানে তরুণ উদ্যোক্তা, আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান, ইতিহাসবিদ, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ, স্থপতি ও শিল্পীদের নাম রয়েছে, যা স্পষ্টভাবে ইউনূসকে বাদ দেয়।
এই তালিকায় না থাকার বিষয়টি অনেককেই অবাক করেছে, বিশেষত যখন সরকার পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে প্রচার করে চলেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—তালিকার বাইরেও কি কোনো ‘অন্যান্য উপায়ে’ ইউনূস পুরস্কার গ্রহণ করতে যাচ্ছেন?
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ইউনূসের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে ‘মতবিনিময় ও নাগরিক সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথাও ছিল। তবে তা হঠাৎ করেই বাতিল করা হয়েছে বলে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সূত্রে জানা গেছে। কী কারণে এটি বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর লন্ডন সফর এবং পুরস্কার গ্রহণের ঘোষণা ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও। নাগরিক সংবর্ধনার মতো অনুষ্ঠানের আকস্মিক বাতিল এবং বিভ্রান্তিকর বার্তার কারণে অনেকেই মনে করছেন, এই সফরের আড়ালে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ডকে ঘিরে এমন বিভ্রান্তি বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বলেই আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

আজকের কথা ডেস্ক