প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

লালমনিরহাটে নারীকে যৌন হয়রানি ঘিরে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, ২৭ গরু লুট, আটক ৪

llmnrhtsghrs
আজকের কথা ডেস্ক

লালমনিরহাট নারী যৌন হয়রানি সংঘর্ষ নতুন মাত্রা পেল তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে, যেখানে এক নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব ও শারীরিক হয়রানির অভিযোগে দুই গ্রামের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরই সুযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্র ২৭টি গরু লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টাও হয়, আটক করা হয় চারজনকে।

গতকাল রোববার (৮ জুন) দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া ও গঙ্গাচড়া শালহাটি নোহালিতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ফলে এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বাধার মুখে পড়তে হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিস্তার চরাঞ্চলের এক নারীকে একই এলাকার দুলু মিয়া নামে এক ব্যক্তি প্রথমে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং একপর্যায়ে তাঁর গায়ে হাত তোলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই নারীর স্বজনরা প্রতিবাদ করেন। এর জেরে দুলু মিয়ার পক্ষের লোকজনের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি ও পরে খোলা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও বল্লম নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। সংঘর্ষ চলাকালে তৃতীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র সুযোগ নিয়ে ২৭টি গরু লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।

সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রথমে পরিস্থিতি শান্ত হলেও রাতে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা চালায়, যার ফলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক ‘দৈনিক আজকের কথা’কে জানান, “এক নারীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আর গরু লুটের ঘটনায় সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনো মামলা হয়নি।”

এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত লালমনিরহাট নারী যৌন হয়রানি সংঘর্ষ সংক্রান্ত ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি, তবে যৌন হয়রানির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং গরু লুটের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হামলাকারী চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে বিরাজমান উত্তেজনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, যা নিয়ন্ত্রণে যৌথভাবে সারা দিনরাত মাঠে কাজ করছে প্রশাসন।

প্রিন্ট করুন