প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার বিতর্কে কোটাবিরোধী আন্দোলনের ছায়া

newton das
আজকের কথা ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন সামনে রেখে রাজ্যের রাজনীতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এর মধ্যেই নিউটন দাস নামক এক ব্যক্তিকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বাংলাদেশের কোটাবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন, অথচ ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ এলাকায় নিবন্ধিত ভোটার হিসেবেও তালিকাভুক্ত।
🔗 সূত্র অথচ ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ এলাকায় নিবন্ধিত ভোটার হিসেবেও তালিকাভুক্ত।

বাংলাদেশের আন্দোলনে নিউটন দাস

ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু সহ আরও কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, নিউটন দাস ঢাকায় ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটাবিরোধী আন্দোলনে লাঠি হাতে অংশ নিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই আন্দোলনকে বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে একটি বড় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিজেপির অভিযোগ: ভোটার জালিয়াতি ও জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি

এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন—বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিক্ষোভে সক্রিয় থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন এলাকায়ও ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকতে পারেন?

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদার এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরেছেন এবং বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
🔗 সূত্র। তারা এটিকে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবেও দেখছেন।

তৃণমূলের অস্বস্তি এবং নিউটনের বক্তব্য

নিউটন দাস অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তাঁর বাংলাদেশ সফর ছিল পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে এবং তিনি “ঘটনাক্রমে” আন্দোলনের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

তবে বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে তাঁর ফেসবুক পোস্ট, যেখানে তাঁকে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থানে দেখা গেছে। এতে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগে তৃণমূলের জন্য অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।

নিউটনের ভোটার পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা

নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, নিউটন দাস ২০১৪ সাল থেকে কাকদ্বীপের ভোটার তালিকায় আছেন এবং ২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করেন। যদিও তিনি স্বীকার করেন, ২০১৭ সালে হারিয়ে যাওয়া ভোটার কার্ডের পরিবর্তে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সহায়তায় নতুন কার্ড সংগ্রহ করেন।

তাঁর ভাই তপন দাস জানান, নিউটনের জন্ম বাংলাদেশে এবং তাঁদের বাবা-মা ভারতীয় নাগরিক ছিলেন না। এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন প্রচারে বিরোধীদের হাতিয়ার হতে পারে।

প্রশাসনের নীরবতা এবং রাজনীতির ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত

জেলা প্রশাসনের কেউ এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। একটি সরকারি সূত্র জানায়, নিউটনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘বাংলাদেশি ভোটার’ ইস্যুটি ২০২৫ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন-এ বিজেপির বড় প্রচার ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। এতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বহিরাগত অনুপ্রবেশ ও জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্ন তোলা আরও সহজ হবে বিজেপির জন্য।

প্রিন্ট করুন