প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম আবারও মিথ্যা তথ্য ছড়ালেন— এবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম দাবি করেছেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার বর্তমানে কানাডা সফরে রয়েছেন। এ কারণেই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার বৈঠকের কোনো নির্দিষ্ট সূচি হয়নি বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার বিকাল সোয়া ৪টায় লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে, এক ব্রিটিশ এমপির উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য দেন শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, “যদি কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যে ফিরে আসেন এবং তার সময় পাওয়া যায়, তাহলেই বৈঠক হতে পারে।”
বাস্তবতা: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনেই ছিলেন
তবে এই দাবিকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলেছেন লন্ডনের ল ম্যাট্রিক সলিসিটর্সের পার্টনার ব্যারিস্টার সালাহ উদ্দীন সুমন। তিনি জানান, “ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কোথাও যাননি, তিনি ব্রিটেনেই রয়েছেন এবং সরকারি কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন।”
তিনি বলেন, “এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার আগে প্রেস সচিব আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে যখন লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনের একাধিক শাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মীরা কাজ করছেন।”
সরকারি কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন কিয়ার স্টারমার
সালাহ উদ্দীন সুমন জানান, ১০ জুন স্যার কিয়ার স্টারমার ডাউনিং স্ট্রিটে শিশু কিং, এলসি ডট স্ট্যানকম্ব ও অ্যালিস আগিয়ার-এর পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তিনি সাউথপোর্টে একটি স্মৃতি উদ্যানের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন এবং সরকারি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি আরও বলেন, একই দিনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং ন্যাটো ও ইসরায়েল প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। এছাড়াও, সাইজওয়েল সি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ১৪.২ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ এবং লন্ডন টেক উইক ২০২৫ উদ্বোধন করেন এনভিডিয়া সিইও-এর সঙ্গে।
বারবার বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন ইউনুস সরকারের মুখপাত্র
এ ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। এর আগেও শফিকুল আলম বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এবারও তিনি জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন এমন একজন রাষ্ট্রপ্রধানের অবস্থান নিয়ে— যা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও কূটনৈতিকভাবে বিব্রতকর।
সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রেস সচিব শফিকুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তিনি মেসেঞ্জার কলের উত্তর দেননি। একইভাবে লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেনও ফোন রিসিভ করেননি।
উপসংহার:
যখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মুহূর্তেই তথ্য যাচাই সম্ভব, তখন একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে মিথ্যা ছড়ানো শুধু অযোগ্যতা নয়— জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। ইউনুস সরকারের উচিত এমন ব্যক্তিকে দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনা।

আজকের কথা ডেস্ক