প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এবার ড. ইউনূসের গ্রামীণ মৎস্য ও পশুসম্পদ ফাউন্ডেশনের ঘেরে ডাকাতি, আহত ৪

ghr dkt 2.width 750
আজকের কথা ডেস্ক

কক্সবাজারের চকরিয়ার রামপুর মৌজায় নোবেলজয়ী ড. ইউনূস এর গ্রামীণ মৎস্য ও পশুসম্পদ ফাউন্ডেশনের ঘেরে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ঘেরের চারজন কর্মচারী আহত হয়েছেন।

এটি চকরিয়ায় ড. ইউনূস এর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন–এর গুরুত্বপূর্ণ একটি খামার, যা বহু বছর ধরে মাছ ও পশুসম্পদ উৎপাদনের সাথে যুক্ত। এলাকাবাসী বলছে, চকরিয়া ডাকাতি এই অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বড় আঘাত করেছে। এতে ফাউন্ডেশনের চার কর্মচারী আহত হয়েছেন।

রাতের আঁধারে ডাকাতি

মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার চিংড়ি জোনের রামপুর মৌজায় ৩০০ একর আয়তনের ঘেরে ডাকাত দল হানা দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন–এর খামার ব্যবস্থাপক উৎপল কান্তি চৌধুরী।

উৎপল জানান, “৭-৮ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল হঠাৎ করে খামার অফিসে প্রবেশ করে। তাদের প্রত্যেকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও কিরিচ ছিল। তারা আমাদের জিম্মি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার বাগদা, কোরাল, বাটা সহ বিভিন্ন মাছ লুট করে নিয়ে যায়।” চকরিয়া ডাকাতির ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আসার পরও এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এছাড়া, ঘের কর্মচারীদের দুটি মোবাইল ফোন ও ছয়টি টর্চলাইটও নিয়ে যায় ডাকাতরা। ড. ইউনূস এর এই সামাজিক উদ্যোগ বারবার হামলার শিকার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

ড.ইউনূস
ড. ইউনূস এর গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন–এর খামার ব্যবস্থাপকের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে চকরিয়া ডাকাতির ঘটনাস্থল পুলিশ

বাধা দিলে মারধর

ডাকাতি চলাকালে কর্মচারীরা বাধা দিলে ডাকাত দল তাঁদের মারধর করে। এতে মসজিদের ইমাম মোজাম্মেল হক, নাসির উদ্দিন, মো. মোজাম্মেল, ও মো. মিজান আহত হন। ফাউন্ডেশনের কর্মীরা বলেন, গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে মাছ চাষ করছিল, কিন্তু বারবার এই ধরনের ডাকাতি ও হামলা কর্মীদের মাঝে ভীতির সৃষ্টি করছে।

অতীতেও ছিল সন্ত্রাসীদের দখল

উৎপল আরও জানান, এর আগেও ২০২১ সালের ৫ জুলাই এবং ২০২৪ সালের ৩ জুন ফাউন্ডেশনের এই ঘের সন্ত্রাসীদের দখলে চলে গিয়েছিল। তবে গত বছরের ৫ আগস্ট বর্তমান সরকারের পতনের পর তারা এলাকা ত্যাগ করলে ড. ইউনূস–এর গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন পুনরায় মাছ চাষ শুরু করে।

২০২১ সালের দখলের ঘটনায় চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলা এখনো চলমান রয়েছে। সেই মামলা এখনো চলমান।

পুলিশের অবস্থান

চকরিয়া ডাকাতি সম্পর্কে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন–এর খামার ব্যবস্থাপকের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এর আগেও ড. ইউনূস এর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক ও অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পে নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশ বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবুও, চকরিয়ায় ঘটে যাওয়া ডাকাতির ঘটনা স্পষ্ট করে যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে।

প্রিন্ট করুন