কিয়ার স্টারমার কানাডা সফর শুরু হতে যাচ্ছে আগামী শনিবার। সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের সরকারি সফরে কানাডার রাজধানী অটোয়া সফর করবেন। এই সফরে তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কর্নির সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন, যেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, কিয়ার স্টারমার ১৫ ও ১৬ জুন কানাডার রাজধানী অটোয়ায় অবস্থান করবেন। সফরকালে তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী কর্নির সঙ্গে বৈঠক করবেন, যেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা, ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।
জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেবেন স্টারমার
এই সফর শেষে কিয়ার স্টারমার অংশ নেবেন জি-৭ জোটভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলনে, যা অনুষ্ঠিত হবে ১৫ থেকে ১৭ জুন, কানাডার আলবার্টা প্রদেশে।
জি-৭ সম্মেলনের আলোচনায় চলমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সংকট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকিকে ঘিরে উদ্বেগ
সফরের পটভূমিতে রয়েছে একটি আলোচিত প্রসঙ্গ—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য, যেখানে তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য বানানোর হুমকি দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ব্রিটিশ ও কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এই প্রসঙ্গটিও আলোচনায় আসবে এবং কীভাবে কৌশলে এই পরিস্থিতি সামলানো যায়, তা নিয়ে মতবিনিময় হবে।
বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্র
এদিকে, বাংলাদেশ সরকারের প্রেস সচিব সফিকুল ইসলাম এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই কানাডায় অবস্থান করছেন। তবে রয়টার্স ও কানাডা সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্টারমার এখনো যুক্তরাজ্যেই আছেন এবং শনিবার তাঁর কানাডা পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রেস সচিবের এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক তৈরি করেছে এবং বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে সর্বমহলে।
সার্বিকভাবে, কিয়ার স্টারমার কানাডা সফর শুরু যুক্তরাজ্য-কানাডা সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি জি-৭ সম্মেলনের আগে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে স্টারমারের কৌশলগত যোগাযোগের অংশ। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির সাম্প্রতিক উত্তাপের প্রেক্ষাপটে এই সফর কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আজকের কথা ডেস্ক