

ড. ইউনুস সরকার এখন শুধু একটি নাম নয়—একটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে দেওয়া বক্তৃতা এবং এর আয়োজনে উপস্থিত সমর্থকদের ভূমিকা ঘিরে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের একাংশ বলছে, এটি ছিল “পূর্বপরিকল্পিত প্রচারণা”, যা আন্তর্জাতিক মহলে বিকৃত বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে।
বিশিষ্ট অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান (সামি) তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে তীব্র ভাষায় এই ঘটনাকে ব্যঙ্গ করেন। তিনি বলেন,
“কী হাইস্যকর একটা অবস্থা, তারাই সহযাত্রী, আবার তারাই শ্রোতা। শেখ হাসিনাও এমন করত, নিজের লোকদের প্লেনে করে এনে সভা বসাত, প্রশ্নও তারাই করত।”
তার মতে, এ ধরনের প্রহসন মূলত দেশের প্রকৃত রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আড়াল করার কৌশল মাত্র।
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারবিরোধী কয়েকটি মহল ও প্রবাসী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই ড. ইউনুসকে ‘ছায়া প্রধানমন্ত্রী’ বানিয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। যদিও এটি বাংলাদেশের সংবিধানে সম্পূর্ণ অবৈধ এবং গণতন্ত্রের প্রতি অসম্মানজনক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন বিশেষজ্ঞরা। এই সরকার কখনো কোনো নির্বাচিত ম্যান্ডেট পায়নি, বরং নিছক একটি প্রপাগান্ডা প্ল্যাটফর্ম বলেই অনেকের দাবি।
চ্যাথাম হাউসের মতো আন্তর্জাতিক ফোরামে ড. ইউনুস যখন বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলেন, তখন অনেকেই ধরে নেন—এটি কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি করছেন। অথচ বক্তৃতার ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, শ্রোতাদের মধ্যে ছিলেন তাঁরই ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—এটি কি মুক্ত আলোচনা, না সাজানো অনুষ্ঠান?
বিশ্লেষকদের একাংশ বলছে, এই তথাকথিত সরকার যদি রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে চায়, তবে তাদের উচিত ছিল গণতান্ত্রিকভাবে জনগণের রায় নেওয়া। তা না করে বিদেশি মঞ্চে বক্তৃতা দিয়ে সরকার গঠনের ইঙ্গিত দেওয়া, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর প্রশ্ন তোলে।
ড. ইউনুস সরকার এখনো কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি পায়নি, বরং এটি জনগণকে বিভ্রান্ত করার একটি কৌশলী প্রচারণা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। চ্যাথাম হাউস বক্তৃতা, সাংবাদিকদের তির্যক মন্তব্য এবং জনগণের মধ্যে দানা বাঁধা অনাস্থা—সব মিলিয়ে এই ছায়া সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে।