

ইউনুস প্রেস সচিব সফিকুল আলমের বিতর্কিত মন্তব্যে ফের আলোচনায় এসেছে ড. ইউনুসের রাজনৈতিক কৌশল ও তথ্য পরিবেশনের পদ্ধতি। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কানাডা সফর নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে তিনি এবার একে সরাসরি ‘প্রচারণামূলক ভুল’ বলে চালানোর চেষ্টা করেছেন। এমনকি যুক্তরাজ্যের একজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যকেও ভুল প্রমাণে মরিয়া হন তিনি।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কর্নির ঘোষণায় নিশ্চিত করা হয়, বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ১৫ জুন শনিবার কানাডায় দুই দিনের সফরে যাচ্ছেন। এই সফর উপলক্ষে জি৭ সম্মেলনেও তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
কিন্তু এর আগেই ড. ইউনুসের ঘনিষ্ঠ ইউনুস প্রেস সচিব সফিকুল আলম গণমাধ্যমে দাবি করেন, “স্টারমার ইতিমধ্যেই কানাডায় পৌঁছে গেছেন।” এ সময় তিনি এমনও বলেন যে, “ব্রিটিশ এমপির বক্তব্য হয়তো বিভ্রান্তিকর, কারণ আমাদের তথ্য অনুযায়ী তিনি আগে থেকেই সেখানে আছেন।”
এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় ওঠে। একাধিক গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে ‘ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তিকরণ’ বলে চিহ্নিত করেন। তারা বলেন, এটি রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।
বৃটিশ পার্লামেন্ট সদস্য রিচার্ড বেনিয়ন জানান, “প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বর্তমানে যুক্তরাজ্যেই রয়েছেন এবং তিনি হাউজ অব কমন্সে বিল পাসে সক্রিয় রয়েছেন।” ফলে সফিকুলের বক্তব্য একেবারেই ভুল প্রমাণিত হয়। তবু ইউনুসপন্থীরা তা সংশোধন না করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং ড. ইউনুসের রাজনৈতিক বৃত্তের এটি পুরনো কৌশল—আন্তর্জাতিক পরিসরে বিভ্রান্তি তৈরি করে নিজেদের পক্ষে ন্যারেটিভ দাঁড় করানো। অতীতেও বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সমর্থনের ভুয়া ব্যাখ্যা দিয়ে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে।
ইউনুস প্রেস সচিবের এই বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ও কূটনীতিকরা প্রশ্ন তুলেছেন—একজন প্রেস সচিব কীভাবে একটি নির্বাচিত দেশের সংসদ সদস্যকে প্রকাশ্যে ‘ভুল তথ্যদাতা’ বলেন? এটি শুধুই শিষ্টাচারবিরুদ্ধ নয়, বরং কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিপজ্জনক।
ইউনুস প্রেস সচিব সফিকুল আলমের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে ড. ইউনুসের পুরো প্রচার কাঠামোর বিশ্বাসযোগ্যতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত না করে একের পর এক মন্তব্য ও প্রচার চালানো প্রমাণ করে—এই চক্র এখনও জনগণ ও বিশ্বকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের বৈধতা প্রতিষ্ঠায় মরিয়া।