প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩
নজরুল জন্মবার্ষিকীতে দৌলতপুর জাতীয় স্বীকৃতি পেল মিজানুরের উদ্যোগে
আজকের কথা ডেস্ক
জাতীয় কবির ১২৬তম জন্মবার্ষিকীতে নজরুল নিকেতন-এর উদ্যোগে তাঁর শ্বশুরবাড়ি কবিতীর্থ দৌলতপুর জাতীয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঐতিহাসিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই সফলতার পেছনে ছিলেন কুমিল্লার সন্তান মো. মিজানুর রহমান সরকার।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর শ্বশুরবাড়ি কবিতীর্থ দৌলতপুরকে জাতীয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করার অভূতপূর্ব অর্জন অর্জিত হয়েছে।
স্থানীয় জনগণ এবং সারাদেশের নজরুলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল কবিতীর্থ দৌলতপুরকে জাতীয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা। সেই স্বপ্নপূরণের দিন এসেছে ২০২৫ সালের ২৫ মে নজরুলের জন্মদিনে।
মিজানুর রহমান সরকার বলেন—
“এই অর্জন আমার একার নয়, এটি দৌলতপুরবাসীর সম্মিলিত ভালোবাসা ও নজরুল নিকেতনের সংগ্রামের ফসল। আমি দেশবাসীর দোয়া কামনা করছি, যেন কবি নজরুলের আদর্শ বাস্তবায়নে আরও নিবেদিত হতে পারি।”
নজরুল নিকেতনের উদ্যোগে দৌলতপুর জাতীয় স্বীকৃতি- ছবি সংগৃহিত
তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে সকল প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তা সংরক্ষিত রয়েছে।
📅 দুইদিনের অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন
বিদ্রোহী কবির জন্মদিন উপলক্ষে নজরুল মঞ্চে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
২৫ মে ২০২৫: কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি
২৬ মে ২০২৫: নজরুল মঞ্চ, কবিতীর্থ দৌলতপুর
নজরুল নিকেতন-এর পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মো. মিজানুর রহমান সরকার। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও জাতীয় পর্যায়ে নজরুল গবেষণা ও ঐতিহাসিক স্থাপনার স্বীকৃতিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নজরুল নিকেতনের তাৎপর্য :
নজরুল নিকেতন শুধুমাত্র একটি সাংগঠনিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা, আদর্শ এবং ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার এক প্রগতিশীল প্রয়াস। কুমিল্লার দৌলতপুরে অবস্থিত মূলত কবির শ্বশুরবাড়ি কেন্দ্রিক ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। এখান থেকেই নজরুল তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অতিবাহিত করেছেন, এবং এখানে রচিত হয়েছে বহু কালজয়ী সাহিত্যকর্ম। এই স্থানের ইতিহাসকে সংরক্ষণ ও তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে তাঁর মানবতাবাদ, সাম্যবাদ ও বিদ্রোহী চিন্তাধারায় অনুপ্রাণিত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
সংগঠনটি নজরুল-গবেষণা, স্মারক অনুষ্ঠান, সংস্কৃতি চর্চা এবং ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে দৌলতপুরকে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ার লক্ষ্যে জোরালো ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে সদস্য সচিব মো. মিজানুর রহমানের একক প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে। নজরুল নিকেতন আজ শুধু কুমিল্লার গর্ব নয়, এটি জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতীক।