
রাজশাহীর পুঠিয়ায় বিএনপির একটি কর্মসূচিতে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মার প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত হওয়াকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বুধবার (১১ জুন) দুপুরে পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে রাজশাহী জেলা বিএনপি। তবে একই দিন বিকেলে জিউপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতারা অভিযোগ তুলেছেন, বহিষ্কৃত নেতাকে মঞ্চে জায়গা দিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি অবজ্ঞা করা হয়েছে। এতে জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

আনোয়ারুলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তাঁর বিরুদ্ধে এক প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ ছাড়াও বানেশ্বর ইউনিয়নের হাতিনাদা গ্রামে সেনাবাহিনীর দুই সদস্যের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণেই তাঁকে ও বানেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
‘কলমের পাওয়ার আছে’, বললেন জুম্মা
ঘটনা প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা বলেন, “কলমের পাওয়ার আছে, আমাকে বহিষ্কার করেছে। কিন্তু আমি তো জনগণের প্রতিনিধি। জনগণ যেখানে চাইবে, আমি সেখানেই থাকব।”
অন্যদিকে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল জানান, বহিষ্কারের খবর তিনি জানতেন না বলেই আনোয়ারুলকে অনুষ্ঠানে নেওয়া হয়েছিল।
জেলা ও উপজেলা নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া
পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “এটা তো বিয়ের দাওয়াত নয়, এটা রাজনৈতিক অনুষ্ঠান। বহিষ্কৃত নেতাকে নিয়ে অংশ নেওয়া দলীয় সিদ্ধান্তের লঙ্ঘন। যারা এই আয়োজন করেছে, তাদের বিষয়টি বোঝা উচিত ছিল।”
রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বিশ্বনাথ সরকার বলেন, “বিকেলের অনুষ্ঠানের বিষয়ে অধ্যাপক নজরুল আমাদের জানিয়েছেন যে তিনি বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আনোয়ারুল ইসলামের বিষয়ে অবগত ছিলেন না।”
বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাকে দলীয় মঞ্চে প্রধান বক্তা হিসেবে জায়গা দেওয়ার ঘটনা দলীয় শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

