

ড. ইউনূসের বিদেশ সফর নিয়ে ফের শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল মন্তব্য করেছেন, ফিনান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মাসুদ কামাল বলেন, “আপনি কারো বাড়িতে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়ছেন, কিন্তু কেউ দরজা খুলছে না—ঠিক এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে এই সফরে।”
মাসুদ কামাল বলেন, “যেখানে নিশ্চিত ছিল যে, আপনার সঙ্গে কারো সাক্ষাৎ হবে না, সেখানে যাওয়ার আগে কেন বলা হলো—‘দেখা হবে’? বলা হলো, অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন, দেশের টাকা ফেরত আনার চেষ্টা করবেন। এসব বলে আপনি দেশবাসীকে কী বোঝাতে চাইলেন?”
তিনি আরও বলেন, “এই সফর কি কোনো রাষ্ট্রীয় বা কূটনৈতিক সফর ছিল? না, এটি ছিল সম্পূর্ণভাবে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত সফর। উদ্দেশ্য ছিল একটি পুরস্কার গ্রহণ করা, অথচ সেই পুরস্কারের তালিকাতেও তার নাম নেই।”

সাংবাদিক মাসুদ কামাল প্রশ্ন তোলেন, “নোবেলজয়ী একজন ব্যক্তি যদি বিদেশে গিয়ে সম্মান না পান, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল না পান—তা শুধু তার অপমান নয়, বরং বাংলাদেশের জাতীয় সম্মানের অপমান। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িত।”
ড. ইউনূসের বিদেশ সফর প্রসঙ্গে মাসুদ কামালের শেষ মন্তব্য ছিল, “আপনি এখন কেবল একজন ব্যক্তি নন, দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন। যদি আপনার কোনো আচরণ দেশের জনগণকে অসম্মানিত করে, তাহলে আপনার সেই দায়িত্বে থাকা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। এই বোধবুদ্ধি যদি না থাকে, তাহলে এত বড় দায়িত্বে আসীন হওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়?”
ড. ইউনূসের বিদেশ সফর নিয়ে মাসুদ কামালের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—এই সফরের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এটি যদি রাষ্ট্রীয় সফর না হয়ে কেবল একটি ব্যক্তিগত পুরস্কার গ্রহণের আয়োজন হয়, তবে কেন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বের ইঙ্গিত দেওয়া হলো? প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়া, প্রটোকল না পাওয়া—এসব ঘটনার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন তিনি। এর পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির প্রতিটি পদক্ষেপ জাতীয় গৌরবের প্রতিনিধিত্ব করে—এই বার্তাটিও তিনি তুলে ধরেছেন। সুতরাং, বিদেশ সফরের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে স্বচ্ছতা, পরিপক্বতা ও কূটনৈতিক বোঝাপড়ার প্রয়োজনীয়তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।