প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

বিদেশে দাঁড়িয়ে জনগণকে অপমান, ভোট বিক্রির অভিযোগ তুলে বিতর্কে ড. ইউনূস!

16602
আজকের কথা ডেস্ক

ভোট বিক্রি—এই মারাত্মক অভিযোগ করে দেশের ভোটারদের সম্মানহানি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। লন্ডনের বিখ্যাত গবেষণা সংস্থা চ্যাথাম হাউজে এক আলোচনায় তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ অনেক সময় টাকার বিনিময়ে ভোট দেয়।” তার এমন বক্তব্যে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও জনগণের নৈতিকতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি দৃষ্টান্ত।

চ্যাথাম হাউজে আয়োজিত আলোচনায় ড. ইউনূস বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র, রাজনৈতিক সংস্কার ও “নতুন রাষ্ট্র” গঠনের রূপরেখা উপস্থাপন করেন। তার ভাষ্যমতে, এ নির্বাচন শুধুই ক্ষমতার রদবদল নয়—বরং আদর্শিক ভিত্তির ওপর একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথনির্দেশ। তিনি বলেন, “আমরা একটি উত্তেজনাকর সময় পার করছি। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চাই আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে।”

ভোট বিক্রি
শেষ পর্যন্ত একটাই দাবি প্রতিধ্বনিত হয়েছে লন্ডনের রাজপথে,
👉 চিন্ময় কৃষ্ণ দাস মুক্তি এখন সময়ের দাবি। ছবি: সংগৃহিত।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তরুণদের রক্তে রঞ্জিত স্বপ্নকে সম্মান জানাতে তিনি ও তার টিম একাধিক রাষ্ট্রীয় সংস্কার চালু করেন বলে দাবি করেন। পুরনো প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে এসে নতুন কাঠামো গড়ার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন, সংসদ, সংবিধান, সিভিল সার্ভিসসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি ‘ঐক্যমত্য গঠন কমিশন’ও চালু হয়েছে, যেটি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা তৈরি করতে কাজ করছে।

তবে, ইউনূসের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঐকমত্য সৃষ্টি কঠিন। তিনি বলেন, “অনেকে বলবেন ভোটারদের উপর আস্থা রাখুন, কিন্তু বাস্তবতা হলো—ভোটদান অনেক সময় অর্থের বিনিময়ে হয়। আমাদের বাস্তবতাকে স্বীকার করে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ভোটব্যবস্থা গড়তে হবে।”

ভোট বিক্রি সংক্রান্ত ড. ইউনূসের এই স্পষ্ট বক্তব্যে দেশে-বিদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের দেশের জনগণের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অনেকের কাছেই অগ্রহণযোগ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি যেমন বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়, তেমনি এটি দেশের জনগণের সম্মান ক্ষুণ্ন করার এক ভয়ংকর উদাহরণ হিসেবেও চিহ্নিত হতে পারে।

ড. ইউনূসের “ভোট বিক্রি” মন্তব্য তাকে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে এনে দাঁড় করিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভোটারদের সম্মানহানিকরভাবে উপস্থাপন করে তিনি প্রমাণ করলেন, নোবেল বিজয়ী হলেই দায়িত্বশীলতা আসে না। এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক বিভাজনই নয়, জনমানসে তার গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ইউনূস এখন আর কোনো পক্ষের নৈতিক ভরসা নন, বরং বিদেশে বসে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের এক কৌশলী কণ্ঠস্বর।

প্রিন্ট করুন