নিবন্ধনহীন দল এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন পরিকল্পনা নিয়ে ফেসবুকে লম্বা বিশ্লেষণ দিলেও—নিজ দলের পরিচয়, সাংগঠনিক কাঠামো কিংবা মাঠপর্যায়ের শক্তির কোনো হদিস নেই। গঠনতন্ত্র নেই, নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি নেই, নেই কোন নির্বাচনী ইতিহাস—তবুও যেন ফেসবুকই তাদের গণতন্ত্রচর্চার প্রধান মঞ্চ! আর হাসনাতের দাবি শুনে এমনটা মনে হয়, এনসিপির রাজনৈতিক ও নৈতিক অধিকার রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারকে “শর্ত” দেওয়ার!
লন্ডনে ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের যৌথ বৈঠকের পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় বলে জানানো হয়। সেই আলোচনাকে স্বাগত জানালেও হাসনাত অভিযোগ করেন, বৈঠকে “বিচার” ও “সংস্কার” যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
তিনি “জুলাই সনদ” নামক এক কাল্পনিক দলিল সামনে এনে বলেন, সেই সনদের আগে নির্বাচনের মাস-তারিখ ঘোষণা অনৈতিক। অথচ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এনসিপির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে—কোনো নির্বাচনে প্রার্থী নেই, সাংগঠনিকভাবে তারা ক্ষুদ্র একটি মোব গ্রুপ মাত্র।
প্রচলিত রাজনৈতিক শক্তি না হয়েও হাসনাত যেন শাসকগোষ্ঠীর ভাষায় কথা বলছেন—একটি ‘আদর্শ বিপ্লবী সরকার’ কীভাবে গঠন হবে, তার দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন!
তবে ব্যঙ্গাত্মক ভাবে তাকে থামিয়ে দেন নিজের দলেরই আরেক নেতা—নাসিরউদ্দিন পাটওয়ারী। তিনি মন্তব্য করেন, “আগে মেম্বার ইলেকশনে জিতে দেখাও।” কথাটিই যেন এই আত্মঅহঙ্কারী এনসিপির মুখে সরাসরি থাপ্পড় হয়ে এসে পড়ে।
নিবন্ধনহীন দল হিসেবে এনসিপি এখনো নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি পায়নি, তবুও তারা সরকারকে শর্ত দিচ্ছে, পরিকল্পনা বাতিল করতে বলছে, এমনকি “জুলাই সনদ” না মানলে নির্বাচনের বৈধতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাচ্ছে। ব্যঙ্গ করে অনেকে বলছেন, ফেসবুক পোস্টে বিপ্লবের খসড়া লিখেই এরা ভেবে নেয়, জনগণের নেতৃত্ব দেওয়ার লাইসেন্স হাতে পেয়ে গেছে। বাস্তবে তারা মাঠে মেম্বার ইলেকশনেও হার মানে—আর সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন নাসির পাটওয়ারী। রাজনীতিতে দায়বদ্ধতা আসে জনসমর্থন থেকে, মোব গঠন আর গালভরা স্ট্যাটাসে নয়।

আজকের কথা ডেস্ক