কুমিল্লায় করোনা শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় আবারও জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় সংক্রমণমুক্ত থাকার পর জেলায় একসঙ্গে চারজনের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। জেলা সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আক্রান্তরা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা, যার ফলে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মো. বশির আহমেদ জানান, গত দুই দিনে তিনজন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন এবং শনিবার আরও একজনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সবগুলো নমুনা কুমিল্লা নগরীর একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করা হয়েছিল।
আক্রান্ত চারজনের মধ্যে একজন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, দুজন ঢাকায় চিকিৎসার জন্য চলে গেছেন, এবং একজনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। তাদের মধ্যে কারো অবস্থা গুরুতর না হলেও, স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
করোনার প্রথম ধাক্কা কেটে যাওয়ার পর কুমিল্লায় দীর্ঘদিন কোনো নতুন রোগী শনাক্ত হয়নি। এ সময় মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও, হঠাৎ নতুন শনাক্তের খবরে সেই স্বস্তিতে ভাঙন ধরেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি করোনার দ্বিতীয় ধাপের সূচনাবিন্দু হতে পারে এবং এখনই প্রয়োজন দ্রুত সাড়া ও জনসচেতনতা।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সংক্রমণের খবরে অনেকেই পুনরায় মাস্ক পরা শুরু করেছেন, তবে এখনও গণপরিবহন, বাজার ও দোকানে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ও ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কুমিল্লায় করোনা শনাক্ত হওয়ার এই সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে দ্বিতীয় ধাপের সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকরা। সংক্রমণ যাতে আর না ছড়ায়, সে জন্য সময় থাকতে প্রতিটি নাগরিককে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

