দ্বিতীয় বিপ্লব কি ছেলের হাতের ময়া, ডাক দিলেই হবে? সাবেক এমপি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি এই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন ঠিক তখন, যখন দেশের রাজনীতিতে কথিত ‘নতুন বিপ্লব’-এর নামে বিভ্রান্তি, ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার নতুন হিসাব-নিকাশ চলছে। তার মতে, বিপ্লব এখন রাজনৈতিক মার্কেটিংয়ের পণ্যে রূপ নিয়েছে, যেখানে আগুন জ্বালিয়ে পেছন থেকে বসে আছে কুশীলবরা—যাদের ইতিহাসে কোনো ত্যাগ নেই, শুধু ষড়যন্ত্রের দক্ষতা আছে।
গোলাম মাওলা রনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন রাজনৈতিক সুবিধাবাদীদের দিকে—যারা নিজেদের “বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড” সাজিয়ে কথিত গণ-আন্দোলনকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাদের অতিবুদ্ধির জ্বালায় আজ ছাত্ররা বিভ্রান্ত, আন্দোলন পথহারা, আর সমাজে বিরোধের আগুন ছড়াচ্ছে।
রনি বলেন, “গত আগস্টের ৫ তারিখের পর হঠাৎ করে এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিক বিপ্লবের পুরোধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, যেন ২০০৯ সাল থেকে বিরোধী রাজনীতির ধ্বজাধারী তারাই। অথচ বাস্তবতা হলো, এদের অধিকাংশই বিগত এক যুগে নানা সময় ক্ষমতার ছায়ায় থেকেছেন, বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগের সাথেই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সমঝোতায় ছিলেন।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন—“একজন মানুষ, যিনি নিজে জীবনে আন্দোলন করেননি, যিনি কোনো কষ্ট করেননি, তিনিই আজ নতুন প্রজন্মের কাঁধে বিপ্লব চাপিয়ে দিচ্ছেন? কোমলমতি ছাত্রদের বিভ্রান্ত করে, ভুল তথ্য দিয়ে মাঠে নামিয়ে তাদের জীবনের সর্বনাশ করছেন?”
তার মতে, বিপ্লব এখন রাজনৈতিক রিটেল মার্কেট—যেখানে মুখে আদর্শ, পেছনে চুক্তি; সামনে ব্যানার, পেছনে ডিল। এই ডিল-মেইকিং রাজনীতির শিকার আজ ছাত্র সমাজ, শিকার আদর্শিক বিপ্লবের আত্মা।
রনি বলেন, “আন্দোলনের নামে এখন বিভেদ, দ্বন্দ্ব আর স্বার্থপরতা ছড়িয়ে পড়েছে। গণঅভ্যুত্থানের যে স্বপ্ন ছিল—সেটা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার বলা হচ্ছে দ্বিতীয় বিপ্লব দরকার। যারা প্রথমটাকে নষ্ট করল, তারাই এখন নতুন বিপ্লবের ঠিকাদার! এটা জাতির সাথে প্রতারণা নয় তো কী?”
তিনি ১৯৮৯ সালের গণ-আন্দোলনের কথা টেনে বলেন, “গণঅভ্যুত্থান একদিনে হয় না। ৩৫ বছরেও হয়নি। আর আজ হুট করে বলা হচ্ছে, ‘বিপ্লব দরকার।’ এটা কি মুরগির ডিম, না যাদুর কাঠি?”
গোলাম মাওলা রনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্বিতীয় বিপ্লব নিয়ে যারা আজ মুখ খুলছেন, তারা নিজেরাই সমাজে বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা এবং আদর্শহীন রাজনীতির বীজ বপন করেছেন। দ্বিতীয় বিপ্লবের নামে নতুন করে ছেলেখেলা করলে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ভয়ংকর অনিশ্চয়তায় পড়বে। “এই বিপ্লব একান্ত হৃদয়ের বিষয়। এটি কন্টেন্ট লেখা বা ফেসবুক লাইভের খেলা না। যদি আত্মসমালোচনা না হয়, তবে এই বিপ্লবের আগুনে কারও পিঠের চামড়াও থাকবে না,”—জোরালো সাবধানবাণী রনির।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব গোলাম মাওলা রনির ফেসবুক থেকে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে “দ্বিতীয় বিপ্লব” শব্দটি এখন অনেকটাই রাজনৈতিক পুঁজি। রনি যে কথাগুলো বলেছেন, সেগুলো মূলত সেই অংশকে বিদ্ধ করে যারা কেবল বক্তব্যে বীর বাহাদুর কিন্তু বাস্তবে সুবিধাবাদী। দ্বিতীয় এ ডাক এখন আদর্শের নয়, বরং পরবর্তী নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার অপকৌশল। জনগণ যদি বুঝে না ওঠে, তাহলে এ বিপ্লব হবে এক গোষ্ঠীর হাতে নতুন প্রজন্মের আত্মাহুতি।

রোমানা আক্তার