

প্রবাসীর স্ত্রী অপহরণ এখন কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক আতঙ্কের নাম। প্রেমের ফাঁদে ফেলে হোমিও চিকিৎসার আড়ালে এক নারীকে অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছয় দিনেও কোনো খোঁজ নেই ওই নারীর। প্রবাসফেরত স্বামী চোখের জল ফেলে স্ত্রীর সন্ধান আর সুবিচারের আকুতি করছেন। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় স্তব্ধ স্থানীয় জনপদ।
ঘটনাটি ঘটেছে দেবীদ্বার উপজেলার মহেষপুর গ্রামে। প্রবাসীর স্ত্রী মাঝে মাঝে হোমিও চিকিৎসক আবদুর রহমানের কাছে চিকিৎসা নিতে যেতেন। সেই সম্পর্ককে পুঁজি করে আবদুর রহমান শুরু করেন কুপ্রস্তাব ও উত্যক্ততা। এ নিয়ে ভুক্তভোগী নারী তার স্বামী আবু হানিফকে জানালে তিনি স্ত্রীকে দেবীদ্বার থেকে গ্রামে সরিয়ে আনেন। কিন্তু ১১ জুন সকাল ৭টার দিকে আবদুর রহমান কালো রঙের মাইক্রোবাসে আরও কয়েকজন সহযোগী নিয়ে এসে জোরপূর্বক অপহরণ করে তাকে।

এই ঘটনায় প্রবাসী স্বামী আবু হানিফ দেবীদ্বার থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন, যাতে আবদুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। তিনি বলেন, “আমি বিদেশে থাকি। আমার তিন সন্তান রয়েছে। আবদুর রহমান আমার সংসার ধ্বংস করেছে। আমার স্ত্রীকে কোথায় নিয়ে গেছে জানি না। আমি চোখে ঘুম পাই না, সন্তানরা বারবার মাকে খুঁজছে।”
অপহৃতার মা শাহীনা বেগম বলেন, “আমার মেয়েকে ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে নিয়ে গেছে। কোথায় রেখেছে জানি না। আমরা দিশেহারা।”
রবিবার রাতে খলিলপুর বাজারে নিজের হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
দেবীদ্বার থানার ওসি শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, “অভিযুক্ত আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমের সর্বশেষ লোকেশন শনাক্ত করা গেছে। দ্রুত উদ্ধার সম্ভব হবে।”
প্রবাসীর স্ত্রী অপহরণ-এর এমন একটি ঘটনায় সমাজ শুধু বিস্মিত নয়, ক্ষুব্ধও। হোমিও চিকিৎসার আড়ালে এই ধরনের নৃশংসতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এক অসহায় প্রবাসীর তিন সন্তান মায়ের জন্য কাঁদছে, আর স্বামী ন্যায়বিচারের আশায় পথ চেয়ে বসে আছে—এতটুকু মানবতা থাকলেও যেন রাষ্ট্র দ্রুততার সঙ্গে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, নারীর নিরাপত্তা আজও গ্রামে কিংবা শহরে নিশ্চিত নয়। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া এমন বিকৃত মানসিকতার লোকদের থামানো সম্ভব নয়।