শৈলকুপার শাহী মসজিদ দক্ষিণবঙ্গের সুলতানি আমলের এক অনন্য স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন। ঝিনাইদহ শহর থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে কুমার নদীর তীরে অবস্থিত এ মসজিদ দেখতে দেশ-বিদেশের মানুষ ছুটে আসেন। কেউ আসেন ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে, কেউ আবার মানত ও করেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের পুত্র নাসির উদ্দিন নুসরত শাহ ১৫১৯ সালে বাংলার সিংহাসনে বসেন এবং রাজকার্য পরিচালনার পথে শৈলকুপায় অল্প কিছুদিন অবস্থান করেন। তার সঙ্গী ছিলেন আরব শাহ ও সৈয়দ আব্দুল কাদের বাগদাদী। ধর্ম প্রচারে আগ্রহী এই দুই ব্যক্তিই এখানকার মানুষদের কাছে ইসলাম ছড়িয়ে দেন।
নুসরত শাহের নির্দেশে আরব শাহ নির্মাণ করেন এই ঐতিহাসিক মসজিদটি, যা আজ শৈলকুপার শাহী মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদের পরিচালনার জন্য নুসরত শাহ এর নামে ওয়াকফ করেন কয়েক শত বিঘা জমি।
মসজিদ ঘিরে প্রচলিত আছে এক রহস্যময় কিংবদন্তি—এটি নাকি এক রাতেই নির্মিত হয়েছিল। স্থানীয়দের মতে, এটি বহু বছর জঙ্গলের আড়ালে ছিল এবং পরে আবিষ্কৃত হয়।
মসজিদের চারপাশে রয়েছে প্রাচীর, পেছনে কবরস্থান, সামনের দিকে ঈদগাহ মাঠ ও উত্তরে একটি পুকুর। পূর্ব পাশে রয়েছে দুটি কবরবিশিষ্ট মাজার—শাহ সৈয়দ আরেফ রাব্বানী (আরব শাহ) ও শাহ সৈয়দ আব্দুল কাদের বাগদাদীর।
বর্তমান ইমাম আনোয়ার হোসেন জানান, “মসজিদটি পাথরের দুটি বিমের ওপর নির্মিত। পাঁচ ফুট পুরু দেয়াল, ছয়টি গম্বুজ, সাতটি প্রবেশপথ ও চারটি মিনারসহ এর গঠনশৈলী চোখে পড়ার মতো। তবে এটি ঠিক কোন বছরে নির্মিত—সেটি নিশ্চিত করে বলা যায় না।”
শৈলকুপার শাহী মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি ইতিহাস, স্থাপত্য এবং বিশ্বাসের এক যুগলমিলন। সুলতানি আমলের এই প্রাচীন নিদর্শন আজো মানুষের ভক্তি ও কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে টিকে আছে, সময়কে সাক্ষী রেখে।

আজকের কথা ডেস্ক