মিয়া বাড়ি জামে মসজিদ সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে—এমনই মনোভাব কুমিল্লার মুরাদনগরবাসীর। উপজেলা সদর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দক্ষিণে ভূবনঘর গ্রামের জমিদারবাড়িতে অবস্থিত এই স্থাপত্য নিদর্শন শুধু ধর্মীয় উপাসনার স্থান নয়, বরং স্থানীয় গর্ব, ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতীক।
১৮৬৭ সালে জমিদার মৌলবি আব্দুস সোবহান উকিলের উদ্যোগে নির্মিত হয় মনোমুগ্ধকর এই মসজিদ। প্রবেশপথে বিশাল তোরণ, দেয়ালে খোদাই করা নকশা, ৩৫ ফুট উচ্চতার মিনার আর তিন গম্বুজের এক অসাধারণ স্থাপনা এটি। নিচতলায় শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা ও উপরে নামাজের জন্য হল, সব মিলিয়ে এটি এক পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক স্থাপত্য নিদর্শন।

তবে এতসব গৌরব ও সৌন্দর্য থাকা সত্ত্বেও মসজিদটি বছরের পর বছর অবহেলিত রয়ে গেছে। সংরক্ষণে কোনো সরকারি উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, এই স্থাপনাটি জাতীয় পর্যায়ে সংরক্ষিত নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃতি পেলে, মুরাদনগরের পর্যটন সম্ভাবনা অনেকগুণ বাড়বে।
স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষক সৈয়দ রাজিব আহমেদ জানান, “মিয়া বাড়ি মসজিদকে কেন্দ্র করে পর্যটন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা চলছে। তবে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো বাস্তবায়ন হয়নি।”
মিয়া বাড়ি জামে মসজিদ সংরক্ষণ যে শুধুই ধর্মীয় প্রয়োজন নয়, বরং এটি ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্ন—এটি এখন এলাকার মানুষের কণ্ঠে কণ্ঠে। তাই সরকারের প্রতি তাদের প্রশ্ন—এত ঐতিহাসিক, দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার সংরক্ষণের দিকে সরকারের দৃষ্টি কোথায়?

রোমানা আক্তার