প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

ডেঙ্গুর ভয়াবহতায় কুমিল্লায় তিন নারীর মৃত্যু, ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা ২ ওয়ার্ড

image 387967
রোমানা আক্তার

ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌর এলাকায় প্রাণ কেড়ে নিয়েছে তিন নারীর। এক মাসের ব্যবধানে মৃত্যুর এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় স্থানীয় প্রশাসন পৌরসভার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করেছে। আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচশ ছাড়িয়ে গেছে।

ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া তিন নারী হলেন দোনারচর গ্রামের সালমা বেগম (৫৬), শাহীনূর আক্তার (২৪) ও সবজিকান্দি গ্রামের জ্যোৎস্না বেগম (৬০)। দাউদকান্দিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর ঢাকার তিনটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ২৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ২৫৮ জন।

পৌর এলাকার দোনারচর, সবজিকান্দি, সাহাপাড়া, বলদাখাল ও তুজারভাঙ্গা এলাকায় প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কেউ না কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। শুধু ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পৌর প্রশাসক রেদওয়ান ইসলাম বলেন, ‘ডেঙ্গু সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে ছয় নম্বর ওয়ার্ডে এক মাসে তিন মৃত্যু বড় সতর্ক সংকেত। তাই ওই দুই ওয়ার্ডে ফগার মেশিন দিয়ে উচ্চমাত্রার ওষুধ প্রয়োগ ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ টিম কাজ করছে।’

ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার নিয়ন্ত্রনে মশক নিধন কর্মসূচি জোরদার করলেও জনসচেতনতার অভাব এবং দ্রুত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থামছে না—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দাউদকান্দির প্রতিটি ওয়ার্ডে সপ্তাহভিত্তিক অভিযান চালিয়ে ডেঙ্গু রোধে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন