প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের হৃদয়ছোঁয়া সৌন্দর্য: স্থাপত্য ও তাওহিদের সম্মিলনে ‘আল মদিনা জামে মসজিদ’

IMG 20250617 WA0203
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

স্থাপত্যশৈলী ও তাওহিদের সৌন্দর্যে মোড়ানো ‘আল মদিনা জামে মসজিদ’ শুধু একটি নামাজঘর নয়, বরং এটি যেন ঈমান, আবেগ ও নান্দনিকতার এক পবিত্র সমাহার। মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগরের হরপাড়া এলাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি এখন হাজারো পথচারী, মুসল্লি ও পর্যটকের ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। প্রথম দর্শনেই যে কারো চোখ আটকে যায় এর গম্বুজ, সুউচ্চ মিনার ও মনোমুগ্ধকর কাঠের দরজায়—যা যেন ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি শিল্পচেতনার প্রতীক।

স্থাপত্যশৈলী
স্থাপত্যশৈলী ও তাওহিদের সৌন্দর্যে মোড়ানো ‘আল মদিনা জামে মসজিদ’ শুধু একটি নামাজঘর নয়, বরং এটি যেন ঈমান, আবেগ ও নান্দনিকতার এক পবিত্র সমাহার।

২০১৫ সালের ১২ জুন পবিত্র জুমার জামাআতের মাধ্যমে শুরু হয় এই মসজিদের আনুষ্ঠানিক ইবাদতের পথচলা। প্রায় ৩০ শতক জমির ওপর নির্মিত, প্রায় ২০০০ মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বিশাল স্থাপনাটি আল্লাহর ঘরকে ঘিরে নির্মিত একটি স্বপ্ন। আলাদা নারীদের নামাজের জায়গা, সুউচ্চ মিনার, ঝাড়বাতির জৌলুস, মিহরাবের কারুকার্য—সব মিলিয়ে এটি যেন হৃদয়ের গহীনে ঢুকে পড়া এক আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য।

মসজিদের মূল সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে তার নিখুঁত নকশা ও পরিবেশবান্ধব কাঠামোয়। ছাদের বিশাল গম্বুজ ও চারপাশের মিনারগুলো শুধু আকাশে সৌন্দর্যের রেখা টানে না, বরং তারা যেন তাওহিদের বার্তা বহন করে। ২০টি জানালা দিয়ে আসা আলো-হাওয়া নামাজের সময় মুসল্লিদের জন্য এক অনাবিল প্রশান্তি নিয়ে আসে।

শুধু ইবাদত নয়, মসজিদটির আশেপাশে গড়ে উঠেছে একটি নূরানী মাদ্রাসা। যেখানে গরিব ও পথশিশুরা পাচ্ছে কুরআন ও প্রাথমিক ইসলামি শিক্ষার সুযোগ। কোনো প্রাচুর্য নয়, বরং আন্তরিকতা ও খালেস নিয়তে পরিচালিত এই মাদ্রাসায় বর্তমানে অর্ধ-শতাধিক শিক্ষার্থী জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হচ্ছে। ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেমসহ পাঁচজন নিষ্ঠাবান দ্বীনি খেদমতে জীবন ব্যয় করছেন এখানে।

স্থাপত্যশৈলী ও তাওহিদের সৌন্দর্যে মোড়ানো ‘আল মদিনা জামে মসজিদ’ শুধু একটি নামাজঘর নয়, বরং এটি যেন ঈমান, আবেগ ও নান্দনিকতার এক পবিত্র সমাহার।
স্থাপত্যশৈলী ও তাওহিদের সৌন্দর্যে মোড়ানো ‘আল মদিনা জামে মসজিদ’ শুধু একটি নামাজঘর নয়, বরং এটি যেন ঈমান, আবেগ ও নান্দনিকতার এক পবিত্র সমাহার।

প্রতিদিনই এক্সপ্রেসওয়ের যাত্রীরা একবার হলেও থেমে যান এই মসজিদের সামনে। কেউ নামাজ আদায় করেন, কেউ মোবাইলে বন্দি করেন এই অপূর্ব সৌন্দর্য। পদ্মা সেতু রেললাইন মসজিদের পেছনে দিয়ে চলে গেছে—যা এর সৌন্দর্যকে করে তুলেছে দ্বিগুণ গৌরবময়।

ধর্মীয় ঐতিহ্য, শিক্ষা ও স্থাপত্যের এক অপূর্ব সম্মিলন হয়ে ‘আল মদিনা জামে মসজিদ’ এখন কেবল ইবাদতের কেন্দ্র নয়, এটি হয়ে উঠেছে একটি সময়ের সাক্ষ্যবাহী নিদর্শন। এ স্থাপত্যশৈলী যেন প্রমাণ করে—আল্লাহর ঘর শুধু চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মানুষের আত্মা, সংস্কৃতি ও অনুভবের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। আজ, এই মসজিদ শুধু মুন্সীগঞ্জ নয়—সারা দেশের মুসলমানদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম।

প্রিন্ট করুন