হাসিনার পদত্যাগ ছিল সময়ের দাবি—এই ভাষাতেই বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেছেন নির্বাসিত লেখিকা ড. তসলিমা নাসরিন। তার মতে, আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের প্রায় সব শ্রেণির মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল। এমনকি অনেক আওয়ামী নেতাও মনে মনে চেয়েছিল শেখ হাসিনার পরিবর্তে আরও কার্যকর ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব আসুক। তবে সুবিধাভোগী একটি গোষ্ঠী ‘স্ট্যাটাস কুও’ ধরে রাখতেই চেয়েছে—যার কারণে আজ দেশজুড়ে জঙ্গিবাদ, দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির বিস্তার।
তসলিমার ভাষ্য, বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা নেই, মুক্তচিন্তকরা জঙ্গিদের ভয়ে দেশ ছাড়ছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নির্যাতনের শিকার, নির্বাচন যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতা, আর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্নীতি। তার মতে, এই বাস্তবতায়ও কিছু মানুষ পরিবর্তন নয়, বরং সুবিধা ধরে রাখতে চেয়েছে।
তসলিমা নাসরিনর ফেসবুক স্ট্যাটাস
তিনি আরও বলেন, “যারা হাসিনার পদত্যাগ চেয়েছিল, তারা আজকের জিহাদি উত্থানের জন্য দায়ী নয়। তারা মসজিদ-মাদ্রাসার লাইসেন্স দেয়নি, জিহাদিদের ওয়াজ মাহফিলের ছড়াছড়ি ঘটায়নি, কিংবা মাদ্রাসার ডিগ্রিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমমানে পরিণত করেনি। বরং এটা পনেরো বছর ধরে আওয়ামী লীগেরই কাজ।”
তসলিমার মতে, আজ যারা গণতন্ত্রপন্থীদের দোষারোপ করছে, তারাই আসলে জঙ্গিবাদকে হৃষ্টপুষ্ট করেছে। “এই সত্য যারা মানতে নারাজ, তারা আবারও সুযোগ পেলে জিহাদি উৎপাদনে ব্যস্ত হবে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিয়ে আবারও একই ভুল করবে,”—স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।
*নির্বাসিত জীবনের প্রেক্ষাপট:* উল্লেখ্য, লেখালেখির কারণে হত্যার হুমকি ও ফতোয়ার মুখে ১৯৯৪ সাল থেকে বাংলাদেশ ত্যাগে বাধ্য হন ড. তসলিমা নাসরিন। প্রথমে ইউরোপ, পরে ভারত এবং এরপর বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। বর্তমানে তিনি সুইডেনের নাগরিক হলেও, ভারতে মাঝে মাঝে আসেন, তবে স্থায়ীভাবে কোথাও নেই।
হাসিনার পদত্যাগ চাওয়া মানুষগুলোকে জঙ্গি উত্থানের দায়ী করা এখন একটি চক্রান্তের অংশ—এমনটাই মনে করেন তসলিমা নাসরিন। তার ভাষায়, “যারা সত্য উচ্চারণ করেছে, তাদের দোষী বানিয়ে আবারও পুরনো ভুলের পথে হাঁটছে শাসকগোষ্ঠী। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিয়ে নিজের অপকর্ম ঢাকতে চাইছে অন্যের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে।”

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী