তথ্য আপাদের আন্দোলন নিয়ে সরকারের উপদেষ্টার বিতর্কিত মন্তব্যে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজপথে। জাতীয় মহিলা সংস্থার সম্মেলন কক্ষে আজ বৃহস্পতিবার এক আলোচনায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, “তথ্য আপারা সরকারকে বিব্রত, কোণঠাসা ও ব্ল্যাকমেইল করছেন। এটিই ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সংজ্ঞা।” ২৩ দিন ধরে আন্দোলনরত কর্মীরা এই বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
উপদেষ্টা শারমীন মুরশিদ আরও বলেন, “তোমরা সরকারের কাছ থেকে সাহায্য চাও, অথচ সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছো। আলোচনা চলছে, মেয়াদ বৃদ্ধির চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু তোমরা রাস্তায় পড়ে থাকো—এটা কোনো সমাধান নয়।” তিনি অভিযোগ করেন, “আন্দোলনে বিগত সরকারের সুবিধাভোগীরা ঢুকে গেছে, তারা রাজনীতিক উদ্দেশ্যে সরকারকে হয়রানি করতে চাইছে।”
চাকরির নিয়ম না মানার অভিযোগ তুলে উপদেষ্টা বলেন, “রিজাইন, জয়েন বা বাইরে থাকার নিয়ম আছে। আইনের ভিতরে আসতে হবে। না হলে আমার আর কিছু বলার নেই।”

তথ্য আপাদের প্রতিনিধি সঙ্গীতা সরকার বলেন, “উপদেষ্টা শুধু তার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে আমাদের আলোচনায় ডেকে বিদায় করেছেন। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির চেষ্টা হচ্ছে বলা হলেও কোনোরকম লিখিত নিশ্চয়তা মেলেনি। আমরা ২৩ দিন রাস্তায়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে উঠছি না।”
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পটি পরিচালনা করছে জাতীয় মহিলা সংস্থা। বর্তমানে দেশের ৪৯২টি উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সহস্রাধিক কর্মী কর্মহীন হয়ে পড়বেন। তারা দুই দফা দাবি জানিয়েছে—চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর এবং কেটে রাখা বেতন ফেরত দেওয়া।
তথ্য আপাদের আন্দোলন নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মনোভাব ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। আন্দোলনকারীদের দাবি মানা না হলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই অনির্বাচিত ও জনবিচ্ছিন্ন সরকার একদিকে women’s empowerment-এর কথা বলছে, অথচ হাজারো তথ্য আপাকে বেকারত্বের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আন্দোলনকারীদের যৌক্তিক দাবি না মেনে তাদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তুলে সরকার আসলে নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে। মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাধানের বদলে দমন-পীড়ন ও অবজ্ঞাই প্রমাণ করছে—এই সরকার জনগণের নয়, সুবিধাভোগীদের।

আজকের কথা ডেস্ক