প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রবাসে থেকেও বিবর্ন আওয়ামী লীগকে অক্সিজেন দিচ্ছেন সুশান্ত

দল যখন নেতৃত্বশূন্য
রোমানা আক্তার

দল যখন নেতৃত্বশূন্য, মাঠ যখন ফাঁকা, কর্মীরা যখন দিশেহারা—ঠিক তখন দৃশ্যের আড়ালে থেকেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রাখছেন আন্তর্জাতিকভাবে সফল, অথচ নিঃশব্দ এক কর্মী: প্রকৌশলী সুশান্ত দাস গুপ্ত। যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও, রাজনীতির টান আর দলের প্রতি দায়বদ্ধতাই তাকে করে তুলেছে বর্তমান আওয়ামী লীগের একজন অঘোষিত চালক। দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন যেন দল হারিয়ে না যায়, ভেঙে না পড়ে।

সুশান্ত দাস গুপ্ত বর্তমানে ব্রিটেনের মিনিস্ট্রি অব ডিফেন্সের রয়্যাল মেরিনে পরিবেশ-স্বাস্থ্য-অগ্নিনিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত। তিনি শুধু একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রকৌশলী নন, বরং “AmarMP.com” এর মতো প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে বাংলাদেশের রাজনীতিকে নাগরিকদের কাছে নিয়ে গেছেন।

তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য, সেইসঙ্গে প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, মানবাধিকারসহ বহু প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে চলেছেন। আন্তর্জাতিক জগতে নিজের অবস্থান শক্ত করেও দেশের রাজনৈতিক দলকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে তার ভূমিকা নিঃসন্দেহে অনন্য।

দল যখন নেতৃত্বশূন্য
🧭 বিবর্ণ আওয়ামী লীগকে শক্তি জুগিয়ে চলেছেন সুশান্ত দাস গুপ্ত
— নেতৃত্বশূন্য সময়ে রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ছবি- সংগৃহিত।

দলের ক্রান্তিকালে যখন কেউ পাশে নেই, তখন প্রবাসে থেকেও সুশান্ত দাস গুপ্ত হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অক্সিজেন। প্রযুক্তি, যোগাযোগ ও কৌশলে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে চলেছেন তিনি। তার এ প্রয়াস এখন কর্মীদের মনে সাহস জাগায়, অনুপ্রেরণা দেয় এবং ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করে সংগঠনের মজবুত ভিত।

তিনি হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও বৃন্দাবন সরকারি কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বিএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের ইস্ট লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে দীর্ঘদিন “টেকশেড” নামক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম পরিচালনা করেন।

পেশাগতভাবে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সদস্য—যেমন: American Society of Civil Engineers, Chartered Institute of Environmental Health, এবং Institute of Occupational Health। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই কন্যার জনক এবং ২০০৬ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করছেন।

সুশান্ত সামাজিক উদ্যোগেও সক্রিয়। তিনি AmarMP.com ও amarprotinidhi.org ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা, যেগুলোর মাধ্যমে জনগণ তাঁদের সংসদ সদস্যদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। এই প্ল্যাটফর্মটি সরকারের আইসিটি বিভাগের সহায়তায় গঠিত এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত।

তিনি International Federation of Journalists (IFJ)-এর সদস্য এবং GenocideBangladesh.org প্রজেক্ট হোস্ট। এছাড়া আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটিরও একজন সদস্য তিনি।

তিনি দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতাও বটে, যার কার্যালয় থেকে ২০২০ সালের ২১ মে তাঁকে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিনের উপদেষ্টা হিসেবে তার নিয়োগে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্টজনেরা অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিনে বাংলাদেশি উপদেষ্টা— এই পরিচয় এখন আমাদের গর্বের অংশ।

দল যখন নেতৃত্বশূন্য, তখন প্রবাস থেকে নিঃশব্দে হাল ধরেছেন সুশান্ত দাস গুপ্ত। সংগঠনের দুঃসময়ে সামনে এসে দাঁড়ানোর মানুষ খুব কম থাকে—আর তেমনই এক বিরল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন তিনি। রাজনৈতিক সংকটে দিশেহারা আওয়ামী লীগকে প্রযুক্তি, সংগঠন ও আস্থার এক নতুন ভাষা শিখিয়ে দিচ্ছেন সুশান্ত। দল পুনর্গঠনে তার চিন্তা, কাজ ও দূরদর্শিতাই আজ অনেক নেতাকর্মীর অনুপ্রেরণার উৎস। দৃশ্যের আড়ালে থেকে হলেও, তিনি যেন হয়ে উঠেছেন এ সময়ের আওয়ামী লীগের অপ্রকাশিত প্রেরণাদায়ী চালক।

প্রিন্ট করুন