প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

দাউদকান্দিতে দেড় মাসে ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু, আক্রান্ত দেড় হাজারের বেশি

দাউদকান্দিতে ডেঙ্গু
আজকের কথা ডেস্ক

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ডেঙ্গু মৃত্যু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। গত দেড় মাসে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অন্তত আটজন মারা গেছেন। দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও চিকিৎসক ও প্রশাসন দ্রুত এই সংকট মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে। সর্বশেষ আজ রোববার ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরুল আমিন (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ী মারা গেছেন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যে দাউদকান্দি পৌরসভার দুটি ওয়ার্ডকে গত বুধবার থেকে ‘হটস্পট’ ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নিয়ে ২৫ জন করে দুটি দল গঠন করে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

দাউদকান্দিতে ডেঙ্গু মৃত্যু
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ডেঙ্গু মৃত্যু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। গত দেড় মাসে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অন্তত আটজন মারা গেছেন। ছবি : সংগৃহিত।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মে থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দাউদকান্দি ২০ শয্যা হাসপাতালে অন্তত ১,৬০০ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩৭ জন দোনারচর গ্রামের এবং ২২ জন সবজিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২৮ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আরও দুই শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পরিবার ও হাসপাতালের সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে দোনারচর গ্রামের নাজির আহমেদ চৌধুরীর স্ত্রী সালমা আক্তার (৫২) ডেঙ্গু জ্বরে মারা গেছেন। এরপর ২৫ মে নাজিম উদ্দিন (৫৫), ৭ জুন মাফিয়া বেগম (৬৫), ১৩ জুন শাহীনুর আক্তার (২৩) ও ইউসুফ সরকার (৫৫), ১৭ জুন কাকলী আক্তার (৪৬), ১৯ জুন লিমা আক্তার (২৪) এবং সর্বশেষ আজ নাগেরকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ী নুরুল আমিন (৫৫) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

দোনারচর গ্রামের রাসেল সরকার জানান, ৮ জুন থেকে তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্য ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। ১৩ জুন তাঁর স্ত্রী শাহীনুর আক্তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দুটি শিশুসন্তান রেখে গেছেন। একই গ্রামের ইব্রাহীম সরকারও ১২ দিন ধরে পরিবারের পাঁচ সদস্যের ডেঙ্গু রোগ নিয়ে চিকিৎসা করছেন। গ্রামের অনেকেই আক্রান্ত।

ডেঙ্গু বিস্তারে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে ছাদবাগানের ফুলের টব, টায়ার, জরাজীর্ণ ভবনে আটকে থাকা পানি ও নালা থেকে জমে থাকা পানি। পৌরসভার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডকে ‘হটস্পট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ দোনারচর, সবজিকান্দি, সাহাপাড়া, নাগেরকান্দি ও দাউদকান্দি বাজার এলাকা অন্তর্ভুক্ত। মৃত ও আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশই এই এলাকায় বাস করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন, দাউদকান্দিতে ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যুর ঘটনা সত্য। তিনি জানান, চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক ডেঙ্গু রোগীদের সেবা দিচ্ছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

রোববার সন্ধ্যায় দাউদকান্দি পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৫ জনের দুটি দল গঠন করে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কাজ করছে।

উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, দাউদকান্দিতে ডেঙ্গু মৃত্যু রোধে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন