প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

কুমিল্লার চণ্ডীমূড়া মন্দিরে জমি দখল নিয়ে উত্তেজনা, ইউএনওর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত প্রাচীন চণ্ডীমূড়া মন্দির জমি বিরোধ নিয়ে উত্তেজনা।
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত প্রাচীন চণ্ডীমূড়া মন্দির জমি বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মন্দির ফটকের সামনের ছয় শতক জমি দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া এ বিরোধের জেরে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উভয় পক্ষকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন।

প্রায় ১,৪০০ বছরের পুরোনো শিব চণ্ডী মন্দিরটি কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত এবং এটি ‘চণ্ডীমূড়া মন্দির’ নামে সুপরিচিত। চণ্ডীমূড়া মন্দির জমি বিরোধ মূলত মন্দির কর্তৃপক্ষ ও আবদুল আলী নামের এক স্থানীয় বাসিন্দার মধ্যে। বিএস খতিয়ানে জমিটি মন্দিরের নামে রেকর্ড হলেও আবদুল আলী জমিটিকে তার পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে শনিবার সেখানে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত প্রাচীন চণ্ডীমূড়া মন্দির জমি বিরোধ নিয়ে উত্তেজনা।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত প্রাচীন চণ্ডীমূড়া মন্দির জমি বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মন্দির ফটকের সামনের ছয় শতক জমি দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া এ বিরোধের সৃষ্টি হয়। ছবি- সংগৃহিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্দিরের প্রবেশপথ সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছয় শতক জমি নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলছে। সম্প্রতি সেখানে মন্দির কর্তৃপক্ষ বিশ্রামাগার নির্মাণ করে। কিন্তু শনিবার সকালে আবদুল আলী নতুন করে ঘর নির্মাণ শুরু করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বাধা দিতে গেলে মন্দিরের সেবায়েত চন্দনা রাহুতের সঙ্গে আবদুল আলীর লোকজনের কথা–কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ইউএনও রুবাইয়া খানম ও থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা দুই পক্ষকে মৌখিক নির্দেশ দেন যেন কেউ স্থায়ী কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করে এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত জমির ওপর কোনো দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা না করে। উভয় পক্ষ স্থাপনা সরিয়ে নিতে সম্মত হয়।

আবদুল আলী বলেন, ‘আমার বাবা এই জমি কিনেছিলেন, তবে রেকর্ডে তা মন্দিরের নামে চলে গেছে। আমরা রেকর্ড সংশোধনের মামলা করেছি। ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমরা ঘর সরিয়ে নিচ্ছি।’

শিব চণ্ডী মন্দির কমিটির সভাপতি দীপক সাহা বলেন, ‘জমিটি মন্দিরের নামে রেকর্ডভুক্ত। সেখানে আমরা বিশ্রামাগার করেছি, কিন্তু তারা হঠাৎ টিনের ঘর তুলতে গেলে প্রশাসনের সহযোগিতা নিই।’

এ বিষয়ে ইউএনও রুবাইয়া খানম বলেন, ‘দুই পক্ষকেই বলেছি, আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত কেউ কোনো স্থাপনা রাখতে পারবে না। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত।’

প্রসঙ্গত, কুমিল্লা নগর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের এই মন্দিরটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, সপ্তম শতকে রাজা দেব খড়গ এখানে চণ্ডী ও শিব মন্দির নির্মাণ করেন। প্রতি বছর পূজা ও মেলায় বহু দর্শনার্থী এ মন্দিরে ভিড় করেন।

চণ্ডীমূড়া মন্দির জমি বিরোধ নিয়ে সম্প্রতি সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিষয়টি এখনো আদালতের বিচারাধীন। তাই দুই পক্ষকে আইন মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

প্রিন্ট করুন