প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

টিউলিপের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে ইউনূস ও দুদকের ‘পরিকল্পিত প্রচারণা’: উকিল নোটিশ

টিউলিপ সিদ্দিকীর সুনাম ক্ষুণ্ন এবং ব্রিটিশ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্যে একটি পরিকল্পিত প্রচারণা চালাচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোমানা আক্তার

টিউলিপ সিদ্দিকীর সুনাম ক্ষুণ্ন করার পরিকল্পনায় ইউনূস ও দুদকের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু

টিউলিপ সিদ্দিকীর সুনাম ক্ষুণ্ন এবং ব্রিটিশ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্যে একটি পরিকল্পিত প্রচারণা চালাচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)—এমন অভিযোগ করে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিমন্ত্রী টিউলিপ। স্কাইনিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উক্ত নোটিশে ইউনূস ও দুদকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

নোটিশে টিউলিপ সিদ্দিকী বলেছেন, ‘তার সুনাম ক্ষুণ্ন করাই ড. ইউনূস ও দুদকের প্রধান উদ্দেশ্য। তারা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে, বিশেষ করে আমার নির্বাচনী এলাকা ও দলকে লক্ষ্য করে।’
স্টেফেনসন হারউড এলএলপি নামের যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠানো হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়, টিউলিপ পূর্বে দুদক এবং ড. ইউনূসকে তিনবার চিঠি পাঠালেও কোনো জবাব পাননি।

টিউলিপ সিদ্দিকীর সুনাম ক্ষুণ্ন এবং ব্রিটিশ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্যে একটি পরিকল্পিত প্রচারণা চালাচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
টিউলিপ সিদ্দিকীর সুনাম ক্ষুণ্ন এবং ব্রিটিশ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্যে একটি পরিকল্পিত প্রচারণা চালাচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ছবি : সংগৃহিত।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১৮ মার্চ, ১৫ এপ্রিল এবং ৪ জুন চিঠি পাঠানো হয়। এসব চিঠিতে টিউলিপের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়।

বিশেষভাবে অভিযোগ করা হয়েছে যে, লন্ডন সফরের সময় ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন টিউলিপ, কিন্তু তিনি সাক্ষাৎ এড়িয়ে যান। ইউনূস বিবিসি রেডিওতে সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, সেটিকে ‘অযৌক্তিক ও কৌশলী এড়িয়ে যাওয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেছে উকিল নোটিশ।

স্টেফেনসন হারউড জানায়, তারা সব প্রমাণসহ চিঠিতে উল্লেখ করেছে কীভাবে এই প্রচারাভিযান টিউলিপের সুনাম ক্ষুণ্নের জন্য পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

টিউলিপ সিদ্দিকীর সুনাম ক্ষুণ্নের পরিকল্পনা এবং ব্রিটিশ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগের ব্যাপারে এখনো কোনো জবাব না পাওয়ায় আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তার আইনজীবীরা। তারা জানিয়েছেন, টিউলিপের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই ‘পরিকল্পিত প্রচারণা’র জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

ড. ইউনূস ও দুদকের বিরুদ্ধে টিউলিপ সিদ্দিকের উকিল নোটিশ আসলে শুধু একটি আইনি লড়াই নয়, এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশি উপাদান প্রবেশের একটি গভীর উদাহরণ। যুক্তরাজ্যের একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে টিউলিপের অভিযোগ এই বার্তা দেয় যে, বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব কূটনৈতিক পরিসরেও বিস্তৃত হচ্ছে। এটি শুধু তার ব্যক্তিগত সুনামের প্রশ্ন নয়, বরং এটি দেখায়, দেশের অভ্যন্তরীণ কর্তৃপক্ষ কতটা প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে বিদেশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কত দূর পর্যন্ত যেতে পারে, টিউলিপের এই পদক্ষেপ তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়।

প্রিন্ট করুন