প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের রেকর্ড, একদিনে শনাক্ত ১০০ জন

ডেঙ্গু আক্রান্ত
Mohammad Shariful Alam Chowdhury

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাউদকান্দিতে বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে—গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) একদিনেই সর্বোচ্চ ১০০ জন ডেঙ্গু পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান।

শুক্রবার (২৭ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, “চিকিৎসার চেয়ে সচেতনতা বেশি জরুরি। আতঙ্ক নয়, আমাদের দরকার মশার প্রজনন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ।”

ডেঙ্গু আক্রান্ত
সংবাদ সম্মেলন, কুমিল্লার দাউদকান্দি। ছবি : সংগৃহিত

ডা. হাবিবুর রহমান আরও জানান, মে থেকে জুন মাসের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন ঢাকায় এবং একজন কুমিল্লায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মৃতদের পাঁচজনই নারী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডেঙ্গুর জীবাণুবাহক এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও স্থির পানিতে ডিম পাড়ে, এবং তার ডিম দুই বছর পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে। তাই যেকোনো পানির পাত্র, ফুলের টব, ব্যবহৃত ড্রাম, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার ও পলিথিন জাতীয় বস্তুয় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর জোর দেন চিকিৎসকরা।

এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতে শুক্রবার থেকেই দাউদকান্দি পৌরসভার ডেঙ্গু-আক্রান্ত এলাকাগুলোতে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ১২০০ পরিবারের মধ্যে সচেতনতামূলক তদারকি কার্যক্রম চলছে, যা তিন থেকে চার দিন চলবে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ছয়জন। মে মাসে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯ জনে। আর জুন মাসে ৮৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। জুন মাসে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় পাঁচ হাজার ব্যক্তি ডেঙ্গু পরীক্ষায় অংশ নেন, যাদের মধ্যে দুই হাজারের মতো ডেঙ্গু পজেটিভ শনাক্ত হয়।

ডেঙ্গু আক্রান্তের লাগাতার বৃদ্ধি দাউদকান্দির জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মত দিয়েছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।

দাউদকান্দিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় স্পষ্ট হচ্ছে, স্থানীয়ভাবে এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল চিকিৎসা নয়, বরং জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা, সচেতনতা এবং নিয়মিত পরিদর্শন চালানোই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মূল কৌশল হওয়া উচিত। বিশেষ করে বর্ষাকালে এডিস মশা অধিক সক্রিয় হয় বলে, এখনই জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ধরনের ব্যাপক বিস্তারে সঠিক তথ্য প্রচার ও জরুরি পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

প্রিন্ট করুন