মুরাদনগরে হিন্দু নারী নির্যাতন: ঘরে ঢুকে ধর্ষণ, ভিডিও ছড়িয়ে গ্রেফতার ৩, প্রধান আসামি পলাতক
মুরাদনগরে হিন্দু নারী নির্যাতন নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া চলমান। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর পাঁচকিত্তা গ্রামে এক হিন্দু নারীকে ধর্ষণের পর বিবস্ত্র অবস্থায় মারধর করে ভিডিও ধারণ ও তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা মূল অভিযুক্তকে আটক করে প্রহার করে; তবে সে আহত অবস্থায় পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ জুন রাত ৮টার দিকে। অভিযুক্ত ফজর আলী ফজর (৩৬), পিতা শহিদ মিয়া, গ্রাম বাহেরচর (পূর্বপাড়া), মুরাদনগর—একই গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার সময় ওই নারীর বাবা-মা ঘরে ছিলেন না। ধর্ষণের পর তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ফজরকে আটক করে মারধর করে এবং কেউ কেউ ভিডিও ধারণ করে।

পরে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ২৭ জুন ভুক্তভোগী নারী মুরাদনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন, যার ভিত্তিতে মামলা নং-১৮, ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ৯(১) অনুযায়ী রুজু করা হয়।
মামলার প্রধান আসামি ফজর আলী এখনো পলাতক রয়েছে। তবে মুরাদনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটির ভিডিও ধারণ ও প্রচারের ঘটনায় ইতোমধ্যে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া একটি গুরুতর আইন লঙ্ঘন এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ রোববার রাত আড়াইটায় মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, “ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। অভিযুক্তকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। পাশাপাশি যারা ভিডিও ধারণ ও প্রচারে জড়িত, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।”
মুরাদনগরে হিন্দু নারী নির্যাতন ঘটনা কেবল একটি ধর্ষণ নয়—এটি নারীর নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং সামাজিক বিবেকের উপর সরাসরি আঘাত। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া এ বর্বরতা রোধ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সুশীল শ্রেনীর জনগন।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী